গত বছর এই সময় বাংলাদেশের উত্তাল পরিস্থিতি। ছাত্র আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে নিশ্চিত হয়, সরকার পতন হতে পারে। অর্থাৎ আন্দোলনের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে দফা এক, দাবি এক এ পরিণত হয়। শেখ হাসিনা সরকার এই আন্দোলনের ঝাঁঝ বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যেতে থাকে। শেষমেষ লাগাম টানতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হাসিনা সরকারের পতনের একবছর পর ফের এই জুলাই মাসে কি দেশ অস্থিরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কারণ ঢাকার মিটফোর্ডে রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদের ঝড়। ঠিক যেমন গত বছর কোটা বিরোধী আন্দোলনে দেখা গিয়েছিল। যেখানে রাস্তা, রাজপথের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত গুরত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করেছিল। মব কালচার নিয়ে সরকার নীরব থেকে একরকম উৎসাহ দিয়ে কি বিপদে পরে গেল অন্তর্বর্তী সরকার? বিএনপির বিরুদ্ধে একটা হাওয়া বইছে। তাতে বিএনপি কি চুপ থাকবে? আসলে কোন দিকে এগোচ্ছে এই জুলাই মাস? কার জয় আর কার পতন হতে চলেছে? বিএনপি বনাম জামাত, এনসিপি হতে গিয়ে কি ইউনূসের সরকারের পতন হবে? ফের গত বছরের পুনরাবৃত্তি? উঠে আসছে প্রশ্ন।
গোটা বাংলাদেশে বিএনপি বিরোধী সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে বিএনপি দেখা যাচ্ছে এনসিপি এবং জামাতের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একটা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে বিএনপির সমস্ত পোষ্টের, ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি সেগুলি জড়ো করে পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর একটু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ভিডিওটি আগের নাকি সম্প্রতির? সেটি কেউ উল্লেখ করছে না। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ বর্তমান। গত বছর ঠিক এরকমই দেখা গিয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা অপদার্থ ছড়িয়ে পড়তে। এবারও কি সেই ধারাটাই বজায় রাখা হচ্ছে? আরো একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এনসিপি, জামাতের সমর্থক হিসাবে বিএনপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি এমন কিছু ছবি সামনে আসছে, যেখানে ক্যাপশন দিয়ে লেখা হচ্ছে, গণভবন লুঠ করা হলে বা বিএনপির পতন হলে কে কি লুঠ করবে, সেগুলি লেখা হচ্ছে। অর্থাৎ দেশের জামাত এমসিপি বনাম বিএনপি লড়াই চলছে। এটাও মাটিকুলাস ডিজাইন কিনা পরিষ্কার হচ্ছে না। তবে এমন গৃহযুদ্ধ তৈরি হলে দেশ ছেড়ে আরো বিপাকে পড়বে সেটা আর বলার অপেক্ষায় রাখে না। আর এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাইরের কিছু শক্তি নিজেদের ফায়দা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেটা কি বুঝবে রাজনৈতিক দলগুলি? এটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post