দেশটার নাম আমেরিকা। নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর তারা কিছু ভাবতে চায় না। তার জন্য একটি দেশে যদি পালাবদলের প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা পালাবদল ঘটায়। নিজের পছন্দের লোককে ক্ষমতায় আসীন করে। তার থেকে পাওনাগণ্ডা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করে। যখন দেখে সেই দেশের থেকে তাদের আর পাওয়ার কিছু নেই, তখন তারা আবার তাদের রূপের বদল ঘটায়। হাতের কাছেই রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় তারা চেয়েছিল আধিপত্য বিস্তার করতে। তাদের সেই চেষ্টা আজকে নতুন নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই আমেরিকা ছিল পাকিস্তানের হার্মাদ বাহিনীর পক্ষে। তারা তাদের অর্থ দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে। ওয়াশিটং স্বাধীন বাংলাদেশ দেখতে চাইনি। তারা চেয়েছিল অখণ্ড পাকিস্তান। আমেরিকার এই ফন্দির টের পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ মুজিব। তাই শক্তিধর আমেরিকা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশ স্বাধীন করতে মাঠে নেমেছিলেন। এখন তারা আবার তাদের রূপের বদল ঘটিয়েছে। এই প্রসঙ্গে হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার বা বিবৃতির উল্লেখ করতে হয়।
হাসিনা তখন ক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে দিল্লির আশ্রয়ে। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি যদি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার হাতে তুলে দিলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হত না। কিন্তু কোনওভাবেই দেশের স্বাধীনতা আমেরিকার কাছে বিক্রি করবেন না। তার জন্য যদি তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়, তিনি চলে যাবেন। নতুন করে আমেরিকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করার কারণ ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। প্রস্তাবে কী বলা হয়েছে? প্রস্তাব পেশ করে গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান রাষ্ট্রসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এই স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ শিরোনামে ওয়াশিংটনে একটি টেলিগ্রাম পাঠান, যাতে তিনি লিখেছিলেন, ‘এছাড়াও, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মদদে অবাঙালি মুসলিমরা পরিকল্পিতভাবে গরীব মানুষের এলাকায় হামলা চালাচ্ছে এবং বাঙালি ও হিন্দুদের হত্যা করছে।’
পরবর্তীতে, ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল, যা পরে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিতি লাভ করে, আর্চার ব্লাড এবং ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের ২০ জন কর্মকর্তা মার্কিন সরকারের নীরবতার প্রতিবাদ জানান। তাঁরা যুক্তি দেন যে, এই সংঘাতকে শুধুমাত্র একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিত, কারণ এর সঙ্গে গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ জড়িত। তৎকালীন কূটনীতিক বলেছিলেন, ‘আমরা হস্তক্ষেপ না করার নৈতিক সিদ্ধান্তও নিয়েছি, কারণ তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ শিরোনামে ওয়াশিংটনে একটি টেলিগ্রাম পাঠান, যাতে তিনি লিখেছিলেন, ‘এছাড়াও, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মদদে অবাঙালি মুসলমানরা পরিকল্পিতভাবে গরীব মানুষের এলাকায় হামলা চালাচ্ছে এবং বাঙালি ও হিন্দুদের হত্যা করছে।’
প্রস্তাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর নিন্দা করা হয়েছে। তৎকালীন কূটনীতিক বলেছিলেন, ‘আমরা হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। ল্যান্ডসম্যান কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতার নিন্দা জানাতে প্রতিনিধি পরিষদকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ’
সমগ্র জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায় তাদের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী নয় উল্লেখ করে প্রস্তাবটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তিনি ৭১-য়ে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের মিত্র জামাতে ইসলামি কর্তৃক বাঙালি হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধপরাধ এবং গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।












Discussion about this post