হাতে এক মাসও আর নেই। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। অন্তত তদারকি সরকার প্রধান এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষণা অনুসারে ওই দিন ভোট হওয়ার কথা। মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে আসেন দুই প্রাক্তন মার্কিং কূটনীতিক – অ্যালবার্ট গম্বিস এবং মর্স ট্যান। তারা তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় গিয়েছিলেন। মূলত আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ইউনূস সরকারের সর্বশেষ অবস্থান কী, সেটা জানার জন্য তাঁদের যমুনাভবনে যাওয়া। বৈঠক হয় এক ঘণ্টা। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ এর সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ইউনূস তাঁদের বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগের কোনও অনুসোচনা নেই। তাই, রাজনীতিতে তাদের ফেরাতে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।
প্রশ্ন কিন্তু অন্য জায়গায়? ভোটের দিন পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারবে তো। পুলিশের একটি মহল চাইছে, তারা তাদের আগের কালিমালিপ্ত ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে। কিন্তু ভোটের দিন তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না তা নিয়ে বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। জনমনেও আতঙ্ক রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ কি নিরপেক্ষভাবে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারবে। পুলিশের শীর্ষকর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক এবং অন্যান্য চাপের কারণে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্বপালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণে নির্বাচনের দিন আইন অনুযায়ী, স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সরকারের থেকে তারা নিশ্চয়তা চাইছে।
সূত্রে পাওযা খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে গত সপ্তাহে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় উপস্থিতি ছিলেন পুলিশের আইজি বাহারুল আলম। সভায় তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল এবং সরকারের তরফে সহযোগিতা না পেলে ভোটের দিন চাপমুক্ত এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এর ফলে ভবিষ্যতে পুলিশের অস্তিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সংকটে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন সমাজের লোকজন গিয়ে যদি থানা ঘেরাও দেয়, তাঁকে ছাড়তে হবে, তাঁহলে কি আমি ধরে রাখতে পারব? আপনি যদি মনে করেন আমি ওমুকের হত্যার বিচার চাই… রাস্তা বন্ধ করে বসে থাকলেন.. যে এটার বিচার করতে হবে, না হলে এই শহরের সবাই আজকে চলাচল করতে পারবে না। এই রকম ডিস অর্ডার যদি রাস্তায় হয়, তাহলে আমি কি ধরে রাখতে পারব আইন-শৃঙ্খলা? আমি পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রাখার জন্য, নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করতে হবে, তার জন্য তো আপনি আমাকে অথরিটি দিবেন। এখন অ্যারেস্ট করলে আপনি ঘেরাও দিয়ে বসে থাকবেন, থানা থেকে তাকে ছাড়তে হবে, তাহলে তো আই ডু নট হ্যাব এনি অথরিটি। আমি এটা চাই আপনাদের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে। যদি অন্যা করি, ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন’।
পুলিশের দিক থেকে যেমন তদারকি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নিয়ে তদারকি সরকার বেশ চাপে। মাঠে না থেকেও তারা সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। খলিলুর রহমানের মার্কিন সফরের পর থেকে সেই চিন্তার পারদ তত চড়েছে। আমেরিকা তদারকি সরকারকে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবে কেন ভাঁটা পড়েছে, সে বিষয়ে আমেরিকার তরফে বাংলাদেশের কাছে জবাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে।











Discussion about this post