চলতি মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ উত্তপ্ত হয়েছিল। এখনও পরিস্থিতি থমথমে। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। এখনও জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি। কেন গুলি চালালো সেনাবাহিনী, কার নির্দেশে গুলি চালালো, এমন প্রশ্ন যেমন উঠছে। ঠিক একইভাবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে কোনও উপদেষ্টাই নির্দেশ দিয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে। এমনকি গণগ্রেফতার চলছে। শিশু মহিলা কেউই বাদ যাচ্ছে না। এমনকি গোপালগঞ্জের ঘটনায় আওয়ামী লীগ হরতালের ডাক দিয়েছিল। এই সমস্ত ঘটনার মাঝে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে একটি সংবাদ সম্মেলন। যে সংবাদ সম্মেলন গোপালগঞ্জ কে কেন্দ্র করে বিএনপি করেছে। তারা দাবি করছে, গোপালগঞ্জে কেন্দ্র করে গণ গ্রেফতার এবং গণ হারে নির্যাতন চলছে। বিএনপির অবস্থান যদি এটা হয়, তবে নিশ্চিতভাবে সরকার বিপাকে পরে যাচ্ছে। আসলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?
গোপালগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংবাদিক বৈঠক করলো। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি চালাতে হলো? কেন ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো? তিনি উত্তরে জানান, প্রয়োজন হয়েছে তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। তবে কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? তার উত্তর দেননি। পাশাপাশি এর উত্তরও দেননি, কেন এই পাঁচজনের দেহ ময়না তদন্ত ছাড়াই সৎকার করে দেওয়া হল। এই প্রসঙ্গ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তুমুল আলোচনা চলছে। আর এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন ধরে গোপালগঞ্জে রাতের অন্ধকারে গণ নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এবার সেটা নিয়ে সরব হল বিএনপি। বিএনপি এর উপজেলার সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেছেন, ১৬ ই জুলাই বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গণ গ্রেফতার চালাচ্ছে। রবিবার বিকেলে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। এমনকি তিনি বলেন, কোটালীপাড়ার বিভিন্ন স্তরের জনতা, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, ভ্যানচালক, দিনমজুকে ধরে নিয়ে এসে আসামি করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে কোটালীপাড়া থানা-পুলিশ। আমরা এই নিরীহ মানুষদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানাচ্ছি। আর যদি একজন নিরীহ মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমরা উপজেলার সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ জানাব।
এমনকি কেউ কেউ বলছেন, ময়নাতদন্ত পরিবারের লোক চায়নি তাই হয়নি। কিন্তু তার কি কোনও প্রমাণ আছে। যদি কোন পরিবার চাই ময়নাতদন্ত করবে না, তবে আদালতের কাছে তাদের লিখিত আবেদন জানাতে হবে। আদালত মনে করলেই তবেই সিদ্ধান্ত হবে। না হলে যে কোন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়না তদন্ত আটকাতে পারে না কেউ। অর্থাৎ এই সরকারের জারিজুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি গণ গ্রেফতারে শিশু ও মহিলাদের ছাড়া হচ্ছে না। যেটা ঘিরে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেকে বলছে, সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবেই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, দেশের মানুষ জেগে উঠবেই। তখন শুধু গোপালগঞ্জ নয়, গোটা বাংলাদেশের মানুষ যদি প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে সামলাতে পারবেন তো মহম্মদ ইউনূস? উঠছে এই বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post