আওয়ামী লীগের এই মুহূর্তে কি পরিকল্পনা? দেশে যেভাবে ঘটনার ঘনঘটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগ কোথায়? ইতিমধ্যেই দেশের অন্দরে অনেকে বলতে শুরু করেছেন, ২০২৪ এর ৫ই অগাস্টের পর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ বলে মনে হচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করেছে। বাড়িয়েছে ভারত বিদ্বেষ। এদিকে বাংলাদেশের বহু গণমাধ্যম বলতে শুরু করেছে, বড় নাশকতার আশঙ্কা। কিন্তু এই আশঙ্কার কথা কেন বলা হচ্ছে? তবে কি সত্যিই আগামীদিনে বাংলাদেশে কিছু ঘটতে চলেছে?
এমনিতেই ভারত পাকিস্তানের সম্পর্কের উত্তাপে চিন্তিত গোটা বিশ্ব। তার মধ্যেই বাংলাদেশে উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি। কারণ ভায়ত পাকিস্তানের যুদ্ধের আবহে বিতর্কিত মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের বহু শীর্ষ কর্তা। তার জেরে, বাংলাদেশকে ফল ভুগতে হবে, মনে করছেন অনেকে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের এই মুহূর্তে ফুরফুরের মেজাজে থাকা উচিত। তার কারণ শেখ হাসিনা বিগত দিনে যা যা বলে গিয়েছিলেন, বিশেষ করে ২০২৪ এর ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে থেকে, বলছি এখন অক্ষয় অক্ষরে মিলছে। তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বলেছিলেন, সেন্ট মার্টিন যদি আমরা হাতছাড়া করি, তবে আমরা নির্ভীক নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবো। কিন্তু হাসিনা সেটা করেননি। সেই কারণেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তার। সম্প্রতি বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, চারিদিক দিয়ে সমস্যা ঘিরে ধরেছে বাংলাদেশের সরকারকে। একদিকে মায়ানমার ইস্যুতে, অন্যদিকে ভারত – পাকিস্তান ইস্যুতে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ বুঝতে পারছে, যাকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে, সেই নোবেল জয়ী দেশের জন্য কি করছেন। উল্টে দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের বহু গণমাধ্যম বলছে, আওয়ামী লীগ নাকি বড় নাশকতার ছক কষছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগ তো বাংলাদেশে তেমনভাবে সক্রিয়ভাবে নয়। দু একটা সভা বা কর্মসূচি করলেও, এখনও তারা স্বাধীনভাবে কোনো কাজ করতে পারছে না। বাংলাদেশের সরকারকে উপেক্ষা করে আদেও কি তারা বড় কোন পরিকল্পনা করতে পারবে? আর যদি পারে সেটা তো বাংলাদেশের সরকারেরই ব্যর্থতা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নির্বাচনের কথা ভাবা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দিলে দেশ কি স্থিতিশীল থাকবে? এটা আগে বোঝার প্রয়োজন বর্তমান সরকারের। এমনকি দেশের জনগণ মোহাম্মদ ইউনুস জামানায় অতৃষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তারা অনেকেই চাইছেন আওয়ামী লীগ ফিরে আসুক। ফলে সেই দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারে, তবে দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। এমনকি গণমাধ্যমে দাবী করা হচ্ছে, এই নাশকতায় ব্যবহার হতে পারে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের হাতে থাকা সাড়ে পাঁচ হাজার অস্ত্র। এদিকে তথ্য বলছে, পুলিশের থেকে লুট হওয়া দেড় হাজারের অস্ত্র বাইরে রয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই অস্ত্র দিও তো নাশক হাতে চালানো হতে পারে? সেগুলি কোথায়? কারা লুট করল? এমনকি খবরের বলা হচ্ছে, এই অস্ত্রগুলি বেশিরভাগই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ক্যাডারদের হাতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনটাই মনে করছেন বলে বলা হচ্ছে খবরে। কিন্তু তা সত্যি হলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা। এতগুলো মাস কেটে যাওয়ার পরও কেন তারা সেগুলো উদ্ধার করতে পারলেন না, প্রশ্ন তো উঠছে।
বাংলাদেশে এখন যেভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে রয়েছে, কি পরিস্থিতি আরো বেশি করে তৈরি হবে, যতদিন না একটি স্থায়ী সরকার আসবে। নির্বাচনের বিষয় ধামাচাপা দিয়ে এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলা হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে, যাতে আরাকান আর্মিকে অস্ত্র অস্ত্র তুলে দিতে পারে আমেরিকা। নানা বাহ্যিক বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার নিজেকে ব্যস্ত রাখছে। অথচ দেশের জনগণের কথা তারা ভাবছে না। তারমধ্যে প্রতিবেশী দুই দেশ যুদ্ধের অবহে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর সেই প্রভাবও পড়তে পারে বাংলাদেশে। তখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খরাপ হবে, সেটা জানেন ইউনূস। আর এই আবহে যদি আওয়ামী লীগ কোনও পদক্ষেপ করে, সামলাতে পারবেন তো তিনি! উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post