সামনেই ৫ই অগাষ্ট। গত বছর সেই দিনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। আর সেই দিনটিকে সামনে রেখে কর্মসূচি সাজাচ্ছে শেখ হাসিনার দল। এমনটাই খবর চাউর হয়েছিল। অন্তত মহম্মদ ইউনূসের উদ্বেগ দেখে সেটাই স্পষ্ট ছিল। এইবার খবর, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। ঢাকা, গোপালগঞ্জ সহ ভারতের কয়েকটি জায়গায় নাকি গেরিলা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা। উদ্দেশ্য, ঢাকা দখল করে সরকার পতনের
আন্দোলনের দিকে যাওয়া। এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর একজন মেজরের যুক্ত থাকা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। যদিও সেনাবাহিনীর তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের মধ্যে রয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর সেনাবাহিনীর তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিষয়টি ঠিক কি। এমনকি ওই মেজর সাদিককে আটকও করেছে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর মেজর সাদিক বাংলাদেশে বসে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। গত ৮ ই জুলাই ঢাকার একটি কনভেনশন হলে একটি প্রশিক্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। সেটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেই সময় সেনাবাহিনী খবর পায়নি। তারা ১৩ই জুলাই থেকে ওই এলাকায় অভিযান চালাতে শুরু করে। এমনকি গ্রেফতারও হন অনেকে। ১৭ই জুলাই মেজর সাদিককে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। এমনকি এর সঙ্গে সাবেক কিছু সেনা সদস্য যুক্ত ছিল বলে খবর। তবে প্রশ্ন উঠে যায়, একটি কনভেকশন হলে গেরিলা প্রশিক্ষণ কি দেওয়া সম্ভব? অনুমান করা হচ্ছে, সেটি গেরিলা প্রশিক্ষণ ছিল। হয়তো মগজ ধোলাই এর কোনও কাজ চলছিল।
আইএসপিআরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ কোর্ট মার্শাল করা হয়েছে। সেখানেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে একটি সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া যায়। তারপর তারা গুরুত্বের সঙ্গে সেটি বিবেচনা করে। এরপর ১৭ ই জুলাই এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই সেনা কর্মকর্তাকে তার উত্তরার বাড়ি থেকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। এমনকি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সত্যটা জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। এমনকি জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং শৃঙ্খলা পরায়ন ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনও সুযোগ নেই। এমনকি সেনা আইন দ্বারা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ ওই মেজর সাদিকের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল চলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তাকে কি আরও বড় কোনও শাস্তি দেওয়া হবে? এর আগে তার একটি ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে পোস্ট দিয়েছিলেন। সেটাকে কেন্দ্র করে লেখালেখি শুরু হয়, তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত, সেই বিষয়টি সকলের নজরে এসেছে। এবং সেই সূত্র ধরেই সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তারপরই দেখা গিয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে জড়িয়ে গিয়েছেন। একজন সেনাবাহিনীর কর্ম কর্তা হয়ে কেন এই কাজ করতে গেলেন? সেই প্রশ্ন উঠছে। ঠিক একইভাবে এটাও বলছেন অনেকে, যে বঙ্গবন্ধুকে পুজো করে বাংলাদেশের বহু মানুষ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো একজন বাংলাদেশী নাগরিকের কাছে খুবই স্বাভাবিক। সেখানে কেন তাকে আওয়ামী লীগ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্ন ওঠে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ তো নিষিদ্ধ। সেখানে দাঁড়িয়ে কিভাবে আওয়ামী লীগ একটি প্রশিক্ষণের কাজ করতে পারে? তাও আবার ঢাকার মত এলাকায়? সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে এটা প্রমানিত, ৫ ই আগস্টকে সামনে রেখে শেখ হাসিনার দল বড়সড়ো কোনও পরিকল্পনা করছে। সেটার প্রস্তুতিতে বাংলাদেশে খানিকটা বানচাল হলেও সেদিন বড় ধামাকা রাখবে সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post