দলীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতাকর্মী গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া এই গেরিলা বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশের মধ্যে বড় ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ঢাকা দখলে নেওয়া। জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের কোর গ্রুপের একটি বড় অংশ প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করেছে। এবং তাঁরা নাকি পুরোপুরি তৈরি যে কোনও সময় ঝটিকা আক্রমণের জন্য। এমনটাই আশঙ্কা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের। আর সেই কারণেই নাকি গোটা বাংলাদেশজুড়ে লাল সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। আর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন, সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া একটি চক্রের কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সরকারের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃতি করে এই খবর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ পত্র। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই গেরিলাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, অবসরে যাওয়া হাসিনা-পন্থী সাবেক সেনা সদস্যরা। এই তালিকায় নাম থাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে মেজর সাদিকুল হক সাদিককে। এও জানানো হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কর্মীদের দেশের বাইরে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে ভারতের দিল্লি ও কলকাতায়। আবার এও দাবি করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও চলছে প্রশিক্ষণ।
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান-সহ পলাতক অনেকেই আওয়ামী লীগ কর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি। এখন প্রশ্ন হল, দেশের বাইরে অর্থাৎ ভারতের কোনও শহরে যদি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে কিছু বলার নেই। কিন্তু ঢাকা বা গোপালগঞ্জের মতো জায়গায় যদি এই প্রশিক্ষণ হয় তাহলে কেন সেটা আগাম জানতে পারলো না গোয়েন্দারা? বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল থেকে এই প্রশ্ন উঠছে। জানা যাচ্ছে, গত ৮ জুলাই রাজধানী ঢাকার একটি কনভেনশন হলে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রশিক্ষণের তথ্য পেয়ে ১৩ জুলাই রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬ জনকে। যাদের মধ্যে বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা আছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের জেরা করে গোয়েন্দারা নাকি জানতে পেরেছেন, ঢাকা দখল করাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। এবং শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল তারা। পরিকল্পনা মোতাবেক তার নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ থেকে তালিকাভুক্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীরা একযোগে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হবেন। এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন দখল করবেন। পুলিশ বা সংবাদমাধ্যমের এই দাবি যদি সত্যিই হয়, তাহলে বলতে হবে এতটা কাঁচা কাজ করবেন না শেখ হাসিনা। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ভারত যেখানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মেনে নেওয়া হবে না। সেখানে ভারতে বসে শেখ হাসিনা ঢাকা দখলের জন্য গেরিলা আক্রমণ করার পরিকল্পনা করবেন সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু ইউনূস সরকার এবং তাঁর প্রেস উইং প্রতিনিয়ত মিথ্যে প্রচার করে চলেছেন, এটা তারই অঙ্গ বলে দাবি আওয়ামী লীগের। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, ইউনূস সরকার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার করার পরও আওয়ামী লীগ ও হাসিনা আতঙ্কে ভুগছে। এখন দেখার ৫ ও ৮ আগস্ট বাংলাদেশে কোনও বড় ঘটনা ঘটে কিনা।












Discussion about this post