বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসন যখন থেকে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছিল, তখন থেকেই ভারত অতি সাবধানী অবস্থান নিতে শুরু করে। বিশেষ করে সামরিক দিক থেকে ভারতের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সময় যত এগিয়েছে, ততই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক মাথামাথি পর্যায়ে পৌঁছেছে। উল্টোদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীও নিরবে তাঁদের তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসেছে যে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক নামে পরিচিত যে সবচেয়ে সংবেদনশীল বা স্পর্ষকাতর এলাকাটি ছিল, সেটি এখন ভারতের সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ভারত মাত্র ২২ কিলোমিটার সংকীর্ণ ওই করিডোরটি এবার আরও চওড়া করে নিতে কোমর বাঁধছে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও হুমকির মুখে পড়তে না হয় শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে। প্রতিবেশী বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই এই বিল্ডআপটি এসেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
কি কি বিল্ডআপ হচ্ছে চিকেন নেককে ঘিরে? এখানে একটা কথা বলে রাথা প্রয়োজন, তা হল দেশের সামরিক তৎপরতা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা সামাজিক মাধ্যমে এভাবে করা যায় না। তবে যা যা চোখে দেখা যায়, এবং সরকারি স্তরে জানানো হয় সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেতেই পারে। আমরাও সেটুকু নিয়েই আলোচনা করবো। শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সাতটি রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য শিলিগুড়ির কাছে সুকনা ও সেবকে একটি বৃহৎ মিলিটারি বেস রয়েছে। যাকে ত্রিশক্তি কোর বলা হয়। এবার শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে আরও তিনটি গ্যারিসন বা সেনা ছাউনি তৈরি করে ফেলেছে ভারতীয় সেনা। একটি বাংলাদেশ সীমান্তকে ঘিরে উত্তরের অসমের ধুবড়ি জেলায় লাচিত বরফুকান মিলিটারি স্টেশন। বাকি দুটি হল বিহারের কিষাণগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায় নতুন ফরোয়ার্ড ঘাঁটি। এই দুই সেনাঘাঁটি বা ছাউনিতে রয়েছেন ভারতীয় সেনার সবচেয়ে ভয়ানক প্যারা কমান্ডো বা প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা। যারা যে কোনও হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে করিডোরকে সুরক্ষিত রাখতে ঝাঁপিয়ে পড়তে সক্ষম। অপরদিকে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অসমের ধুবড়িতে ১৯৬ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত এবং তেজপুর-ভিত্তিক ৪র্থ কর্পসের অধীনে যে মিলিটারি স্টেশনটি তৈরি হয়েছে তা উত্তর-পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় সেনা ছাউনি। এখানেও প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট সহ প্রায় ১,৫০০ জন কর্মীর ধারণক্ষমতা রয়েছে। এই স্টেশনটি নজরদারি, এলাকা আধিপত্য এবং দ্রুত মোতায়েনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এর পর আসা যাক হাসিমারা এয়ারবেস বা বিমানঘাঁটি প্রসঙ্গে। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে অবস্থিত ভারতীয় বায়ুসেনার এই বিমান ঘাঁটিটি অবস্থানগত ভাবে ও কৌশলগতভাবে দেশের নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ বাংলাদেশ ও চিন সীমান্তের খুব কাছে হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। রাফালের পাশাপাশি সুখোই, মিগের মতো যুদ্ধবিমান এবং রুদ্র হেলিকপ্টার, এমআই-১৭ এর মতো হেলিকপ্টার রয়েছে হাসিমারার বায়ুসেনা ছাউনিতে। বলে রাথি ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় এই হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটির এই দুই স্কোয়াড্রন বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। তখন অবশ্য, সুখোই-৩০, রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ছিল না ভারতের হাতে। ফলে চিন ও পাকিস্তানের থেকে যুদ্ধবিমান কিনে এবং ধার নিয়ে বাংলাদেশ যে দাদাগিরি দেখানোর চিন্তাভাবনা নিয়েছিল তাতে কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে ভারত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের বহর। কয়েকদিন আগেই যা বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় সেনা সফল পরীক্ষা করল। ১ ডিসেম্বর দক্ষিণ কম্যান্ডের ব্রহ্মস ইউনিট আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ডের সহযোগিতায় এই লঞ্চ পরিচালনা করেছে। বলে রাখি অপারেশন সিঁদূরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফের বক্তৃতাতেও উঠে এসেছিল রাশিয়ার সহযোগিতায় ভারতে তৈরি সেই ব্রহ্মস ক্রুজ় সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। এমনকি ওই অঞ্চলে ভারত পিনাকা, আকাশ, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসও মোতায়েন করে ফেলেছে। অন্যদিকে সামরিক দিক থেকে যে ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত সরকার, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু গুপ্ত অভিযান। সবমিলিয়ে টালমাটাল ঢাকা। মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিনিধিরা কেউ দোহা ছুঁটছেন তো কেউ গোপনে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশের সমস্যার সামাধানের একটাই উপায়, বাংলাদেশে সুষ্ঠ, অবাধ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক একটা নির্বাচন। সেই সঙ্গে পাকিস্তানে নিয়ন্ত্রণে থাকা জঙ্গি লঞ্চপ্যাডগুলি নিষ্কৃয় করাও এখন ইউনূস সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। না হলে বাংলাদেশের সঙ্গে কি করা হবে, সেটা ঠিক করবেন নরেন্দ্র মোদি। পাশে রয়েছে রাশিয়া।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post