মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ যে খুশি নয় এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। ইউনূসের দোসররা এর আগেও দুই-একবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্যু বা অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করেছিল। খলিলুর রহমানকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করে কার্যত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টাও হয়েছিল, এমনকি তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্তও হয়েছে। এরপরে আমরা দেখলাম, ২৪ জন সেনাসদস্যকে সরাসরি গুম-খুনের মামলায় অভিযুক্ত করে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে কাঠগড়ায় তুলে দেওয়া হল। সক্রিয় সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ধরণের মামলার নজির গোটা বিশ্বেই খুব কম। ফলে বিব্রত সেনাকর্তাদের একাংশ কার্যত ফুঁসে উঠেছিল। জেনারেল ওয়াকার কোনও রকমে ওই অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একটি সাব-জেল করে রাখার বন্দোবস্ত করেন। ফলে সেনাবাহিনীর মধ্যে অসোন্তেষ সাময়িক কমেছিল বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু দেশটার নাম বাংলাদেশ এবং সে দেশে মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন কুশলী রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের ক্যান্টনমেন্ট বা সেনাছাউনিগুলিতে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে কার্যত গ্রেফতার হওয়া ১৪ জন সক্রিয় সেনাকর্তার বিচার নিয়েই নতুন করে উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই ১৪ জনই ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে তৈরি হওয়া নতুন সাব-জেলে বন্দি। তাঁদের প্রথমদিন একসাথেই আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে তাঁদের একসাথে নয়, বরং আলাদা আলাদা করে আদালতে হাজির করানো হচ্ছে। মজার বিষয় হল তাঁদের একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যেমন বুধবাই গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে এই দশজন সেনাকর্মকর্তাও রয়েছেন। সমস্যা এখানেও নয়। যেটা অভিযোগ, অভিযুক্ত এই সেনাকর্তাদের কাউকেই নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের আইনজীবী নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অভিযোগ হল, ওই আইনজীবীরা ঠিকঠাকভাবে সাওয়াল করছেন না। অনেকটা যেমন পলাতক শেখ হাসিনাদের জন্য রাষ্ট্রই আইনজীবী নিয়োগ করেছে। এ ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। একটা দায়সারা এবং পরিকল্পিত বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এটাই মুলত ক্ষোভের আগুন সঞ্চার করেছে বাংলাদেশ সেনার অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে। তাঁরা কার্যত ক্ষিপ্ত ও ক্ষোভে ফুঁসছেন।
এই আগুনে ঘি ঢেলেছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, গুম-খুনের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে, তা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও বিচার নয়। অর্থাৎ তিনি অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের বিচারের আগেই দোষী বলে দেগে দিলেন। আবার তাজুল ইসলাম বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে রিপোর্ট পেশ হয়েছে সেটা নিয়েও নতুন করে সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটাও এই ক্ষোভে আরও ঘি ঢেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে কার্যত বিভক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করতে চাইছেন ইউনূস ও তাঁর দোসররা। উল্লেখ্য, ১৬ বছর আগে বাংলাদেশের পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দফতরে বিদ্রোহ হয়েছিল। তাতে মারা গিয়েছিলেন ৫৬ জন সেনা আধিকারিক। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ছিল ৭৫ জন মতো। মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেই ওই হত্যাকাণ্ডের নতুন করে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। একটি কমিশনও গঠন করা হয়। পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন রিপোর্টও ছিল, যা উইকিলিস ফাঁস করেছিল। কিন্তু ইউনূসের তদন্ত কমিশন হাসিনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি মতোই একটা সাজানো রিপোর্ট পেশ করে দেয়। এতে ভারতকেও দায়ি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং ভারতের কয়েকজন সেনাকর্তার জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। এবার সেটা নিয়েও নতুন মামলা দায়ের হতে পারে। যা নিয়ে বাংলাদেশের ঢাকা, সাভারের মতো ক্যান্টনমেন্টের ভিতর তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post