২ হাজার ২৫ সাল তো বটেই, এই ২০২৬-য়ের ফেব্রুয়ারিতে দেশের সবচেয়ে উচ্চারিত নাম ওসমান হাদি। এতো এতো ইস্যু আসছে, যাচ্ছে কিন্তু হাদি ইস্যু চিরজীবন্ত। মানুষ ভালোবেসেছে, মানুষ শোক করেছে হাদির মৃত্যুতে। অনেক বলছেন, হাদির যে জনপ্রিয়তা ছিল, সেই জনপ্রিয়তা নির্বাচনে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতিয়ে দিত। নির্বাচনের রঙটাও হতে পারত অন্যরকম। কিন্তু সে সব থেমে গেল হাদির মৃত্যুতে। নির্বাচনের ঠিক চারদিন আগে আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও ঝড় উঠেছে হাদিকে নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে হাদিকে মেরে কার, কী লাভ হল? অনেকে তো বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রের কিছু অংশ সরাসরি জড়িত।
হাদির হত্যার তদন্তের দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠল বাংলাদেশ। ঢাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত হন অনেকে। তাদের মধ্যে পুলিশকর্মী যেমন রয়েছেন, আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাদির সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনের আগে কেন এমন হিংসাশ্রয়ী হয়ে উঠল বিচার প্রত্যাশীরা? অনেকে বলছে, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র। ইনকিলাব মঞ্চ সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, নির্বাচন সঠিক সময়ে হতে হবে। তবুও আলোচনা থামছে না। ভস্মে ঘি ঢেলেছে জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইরফান শেখ। হাদিকে নিয়ে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস রীতিমতো ঝড় তুলেছে। অনেক হিসেব উলটে দিয়েছে।
তিনি লিখেছেন, “সম্ভবত এটা আমার লেখা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। পোস্ট। আমি ঝুঁকিটা নিচ্ছি। আমাদের রাজনীতির বেশ কিছু হিসাব ঠিক মিলছে না। আওয়ামী লীগের যদি কাউকে গুলি করতে ইচ্ছে করে, সে ইচ্ছা তালিকায় সবার উপরে থাকবে নাহিদ, হাসনাত, সারজিস, সাদিক, আসিফ বা মাহফুজ। এরাই হাসিনার সব চেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। এদের মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা ছিলেন। বাকিদের চালচলন ছিল সাধারণ মানুষের মতই। ”
ইরফান শেখ আরও লিখেছে, “হাসনাত আবদুল্লাহ পাঠাও বাইকে চড়ে যমুনায় যেতেন। কোনদিন হেলমেট পড়তেন না। হাসনাত, নাহিদ, সারজিসরা কোনওরকম সেফটি নেটের মধ্যে ছিলেন না। এদের কাওকে শ্যুট করা মাঝারি লেভেলের দক্ষণ কোনও শ্যুটারের পক্ষে সহজ কাজ। কিন্তু লীগ এদের কাওকে না মেরে জুলাই আন্দোলনের থার্ড লেয়ারের আন্দোলনকারী ওসমান হাদিকে মারলো। ক্রাউড ফান্ডিং করে, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো কতটা কঠিন আমি জানি। আপনি ক্লাব, পাঠাগার, সমাজসেবী সংগঠন করে থাকলে আপনিও জানেন কাজটা কত কঠিন। ওসমান হাদি দেড় বছরের মধ্যে সংগঠন দাঁড় করিয়ে ক্রাউড ফান্ডিং করে লাখ লাখ টাকার আসবাবপত্র, কার্পেট, ডেকোরেশন, বইপত্র কিনে ফেললো। ঢাকার ইকোনমিতে একটা নন এনজিও সংগঠনের রাতারাতি এমন এসেট তৈরি হওয়া শুধু অস্বাভাবিক নয়। এটা অসম্ভব। অর্থাৎ হাদির পিছনে বড়ো কারো আশীর্বাদ ছিল। ওসমান হাদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আমলা, শ্রমিক নেতা, ছাত্র নেতা – কোনওটিই ছিলেন না। তার সারাক্ষণ মৃত্যুভয়ে ভীত থাকার কিছু ছিল না। বরং মৃত্যুভয় যদি পেতেই হয়, হাদির চাইতে উপরে যাদের নাম বললাম, তাদের মৃত্যুভয় বেশি থাকার কথা। কিন্তু আমরা জুলাই এর প্রথম সারির যোদ্ধাদের সারাক্ষণ মৃত্যুভয় নিয়ে জপ করতে দেখি না। ”
এটা স্বীকার করতেই হয় যে হাদি ন্যাশনাল ফিগার ছিলেন না। কিন্তু তাকে সিগমা মেল বানানোর জন্য মিম পেজ আর নিউ মিডিয়াগুলো মরীয়া হয়ে কাজ করেছে। তার উত্থানটা সুপার গ্লু দিয়ে দাঁড় করানো তাসের ঘরের মতো। ইরফান শেখের মতে সব চেয়ে রহস্যময় হল খুনি ফয়সালের কাছে পাওয়া ২১৮ কোটি টাকার চেক। জুলাইয়ের একজন কর্মীকে মারতে কেউ এত টাকা খরচ করে ? এই কাজ কোনও কাঁচা হাতের নয়। হাদিকে মেরে সব চেয়ে ক্ষতি হয়েছে আওয়ামী লীগের। আর লাভবান হয়েছে জামায়াত। হাদির কোনও বড়ো অবদান না থাকলেও তাকে তাড়াতাড়ি ন্যাশনাল হিরো বানানো হয়েছে। জাতীয় কবির পাশে কবর খুঁড়ে তাকে দাফন করা হল। হাদির বড়ো ভাইকে বিদেশ মন্ত্রকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। সরকার সব করার পরেও ইনকিলাব মঞ্চ কেন যমুনা ঘেরাও করছে। কেন তারা দিল্লিতে বসে থাকা আপার বিচারের বদলে যমুনায় গিয়ে সংঘর্ষ করছে। এটা কি নির্বাচন বানচালের মেটিকুলাস ডিজাইন?












Discussion about this post