নাটকের মঞ্চ তৈরি। কুশীলবরাও প্রস্তুত। মঞ্চের সব লাইট শেষবারের মতো দেখে নেওয়া হচ্ছে। ডিমার টানা হচ্ছে। থার্ডবেল পড়লেই পর্দা উঠবে। একে একে মঞ্চে প্রবেশ করবেন শিল্পীরা। থার্ড বেল পড়বে আগমীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটার সময়। আর নাটকের নাম “বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন”। নাটকটি লিখেছেন শিল্পী ইউনুস । নাটক একাঙ্ক নয়, ফুল লেংথের। নাটক লেখা হয়েছে গত দেড় বছর ধরে যমুনাভবনে। এই নাটকের প্রধান প্রধান চরিত্রগুলি হল শিল্পী নিজে, বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লা। ইউনূসের ইচ্ছা জামায়াত জয়ী হোক। তার জন্য তিনি একটা গণভোটের ব্যবস্থা করেছেন। এই গণভোট জুলাই সনদ নিয়ে। “হ্যাঁ” ভোট মানে বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের অন্তর্জলী যাত্রা। সরকারের তরফে গত কয়েক মাস ধরে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে জোর কদমে প্রচার চালানো হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ত্রয়োদশ নির্বাচনের ফলাফল ঝুলিয়ে রেখে আগে গণভোটের রায় জানিয়ে দেওয়া হবে। তদারকি সরকার প্রধান এর জন্য জামায়াত, এনসিপিকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। তারেক রহমানও কিন্তু প্রথম দিকে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষেই ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি বুঝতে পারেন তদারকি সরকার প্রধানের উদ্দেশ্য কী। সেটা বুঝতে পেরেই তিনি আর এই নিয়ে কোনও কথা বলেননি।
ভারতের একটাই দাবি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সর্বাত্মক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। ভারতের সুরে বাকি দেশগুলো কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু ইউনূস ভারত সহ বিশ্বের বহু দেশের মতামতক উপেক্ষা করে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের জেদ বজায় রাখার জন্য, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসার সিদ্ধান্ত নেন। তদারকি সরকার আসেল ইলেকশন নয়, একটি সিলেকশন করছেন। জামাত প্রধান শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসিয়ে তিনি এখন রাষ্ট্রপতি পদে বসার জন্য মরীয়া হয়ে উঠেছেন। এটাই তাঁর মনের গোপন ইচ্ছা। আসলে দেহত্যাগ না করলে তিনি কোনওভাবেই পদত্যাগ করবেন না। সবাই ধরে নিয়েছিলেন যে ইউনূসের বিদায় আসন্ন। কিন্তু তিনি যে তলে তলে ঘুঁটি সাজিয়ে রেখেছেন, সেটা অনেকের চোখে ধরা পড়েনি। এখন ভোটের মুখে সেই কৌশল ফাঁস হয়ে গিয়েছে। ইউনূসকে ঘিরে রয়েছে এক অদ্ভুত “ আমিত্ব ” । হয়তো তিনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন এই আমি কি সেই আমি? প্রশ্ন হল তিনি প্রধানমন্ত্রী হোন বা রাষ্ট্রপতি, বিএনপি কি তাঁকে ছেড়ে দেবে? ক্ষমতার কাছাকাছি এসে বিএনপি নিশ্চই চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতছাড়া করবে না। তারা চাইবে না ট্রফি তাদের হাত থেকে ছিটকে যাক। জামায়াত কিন্তু বাংলাদেশে কোনওদিন ক্ষমতায় আসীন হতে পারেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাই, তারা সুবর্ণ সুযোগ তারা হাতছাড়া করবে না। প্রশ্ন এই দুইয়ের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের কী হবে?
আওয়ামী লীগ তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়বেন বলে মনে করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশ। এর কারণ, দলনেত্রী রয়েছেন দিল্লিতে। বহু নেতা আত্মগোপন করে রয়েছেন। দলের মধ্যমান থেকে তৃণমূলস্তরের কর্মীরা মানসিক দিক থেকে বিধ্বস্ত। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ঠিক। কিন্তু হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে গিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মার্কিং করে চলা হয়। হয়তো তারা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ভোট দিতে যাবেন। গণভোটে “ না”য়ের পক্ষে মত দেবেন। অনেকে বলছে, আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বিএনপি বা জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন। তাদের কাছে পরিবার আগে, প্রাণ আগে।
যে এই ভোটে হারবে, সে কিন্তু অপর পক্ষকে কোনও অবস্থাতেই খোলা মাঠ ছেড়ে দেবে না। এই সিলেকশনে ব্যাপক রিগিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ইউনুস কিন্তু জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ১৮০ দিনের আগে কোনওভাবেই ক্ষমতা ছাড়বেন না। ক্ষমতা তাঁকে ছাড়ে না তিনি ক্ষমতা ছাড়েন, সেটা জানা যাবে আগামী কাল বিকেলে, যখন শুরু হবে ভোট গণনা।












Discussion about this post