ধরে নেওয়া যাক ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হয়ে গেল প্রায় নির্বিঘ্নে। প্রশ্ন পরের দিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি কী হবে? এই দিনটি ক্যালেন্ডারের দিন বদলের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে না। হয়তো বা এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ভোটের মাঠের উত্তাপ এখনও রয়ে গিয়েছে। তার আগেই ভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রহস্য এখানেই। তৈরি হবে নতুন এক সমীকরণ, যা সাধারণ মানুষের ভাবনার জগতকে সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিতে পারে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনটি সম্ভাব্য পথ কী কী স্পষ্ট হতে পারে। এক managed consolidation, গণভোটে হ্যাঁ, সংসদে দেরি। তারপর সমীকরণ মিলিয়ে একটি কার্যকর গঠন। বিএনপি তখন ক্ষমতার খনিক ছোঁয়ার আশায় আপসে যাবে। জামায়াত, এনসিপি নির্বাহি ক্ষমতার চাবিকাঠি পাবে। প্রধানমন্ত্রী প্রতীকের প্রশ্ন আপাতত ঠেলে রাখা হবে। দুই contested legitimacy. বিরোধী শিবির রাস্তায় নামবে। হরতাল, অবরোধে ধর্মঘটের ঘূর্ণিঝড় উঠবে। প্রশাসন জরুরী কৌশল নেবে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাতে ধরপাকড় হবে। তিন deal based pivot. গোপন টেবিলে হবে ক্ষমতার ভাগাভাগি।
১৩ তারিখের সকাল শুরু হতে পারে এক আশ্চর্য নীরবতা দিয়ে। যেন ঝড়ে পূর্বাভাস। ইউনূস সরকার যে ছক কষেছে, তা স্পষ্ট। জানুয়ারিতে তার একটা আভাস দিয়েছিলেন ইউনূস সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, “সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক দিনে হওয়ায় এবার গণভোট দেরি হতে পারে। ” আশঙ্কা করে হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঝুলিয় রাখা হবে। জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। মানুষের “না” ভোটগুলি কোনও এক আশ্চর্য জাদুবলে পাল্টে “হ্যাঁ” হয়ে যাবে। তার সব ছক তৈরি করে রেখেছে তদারকি সরকার। এই রিসেট বোতম টিপে সরকার শুধু সংবিধান বাতিল করবে না। বরং তাদের গত দেড় বছরে তাদের সব অপকর্মের বৈধতা আদায় করে নেবে। জামায়াত ও এনসিপির নেতারা বিজয় মিছিল বের করবে। এই মিছিল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কোনও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে না। বরং তা হবে এক ধরনের শক্তির প্রদর্শনী। বিএনপি এবং জামায়াত তাদের পেশির জোর দেখাবে। এটা অন্য বিরোধী শক্তির জন্য এক অশনি সংকেত হবে। বিএনপির জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি হতে পারে এক দুঃস্বপ্নের দিন। তারা তো ভাবতেই পারেনি যে তারা বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের তো আশা ছিল, তাদের বিশ্বাস ছিল যে আগামী পাঁচ বছর তারা বাংলাদেশ শাসন করবে। পরাজয়ের গ্লানিতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবে। তারেক রহমান, ইউনুস বেঁচে থাকবেন সেনাবাহিনীর দাক্ষিণ্যের ওপর। দলের ভিতরের একটি অংশ যোগ দেবে এনসিপিতে। এনসিপির কেউ কেউ জামায়াতের দিকে ঝুঁকবে। আর কেউ কেউ বামপন্থীদের সঙ্গে হাত মেলাবে। এমনই সম্ভাবনা করেছেন পিনাকি ভট্টাচার্যের। বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে চলেছে। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমানকে আবার দেশ ত্যাগ করে লন্ডনে চলে আসতে হবে। পিনাকি বলছে, আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলীন হবে।
দেখা যাক একবার অর্থনীতির দিকে। বাংলাদেশ তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তে চলেছে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সে দেশের অর্থনীতিবিদেরা। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় থাকবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রাক্তন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ২০২৫ সালেই বলেছেন, আগামী বছরের মুল চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারির পর অস্থিরতা তৈরি হল সব সম্ভাবনা উলটে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে পড়ার যে সংকেত মিলছে, তা বাস্তবেই দেখা যাবে। বন্দর লিজ দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ১২ তারিখ ভোটের পর তা আরও ঘনীভূত হবে। ধাক্কা খাবে আমদানি রফতানি। সব থেকে বড়ো বিষয় দেশ পেতে পারে এক অস্থিতিশীল সরকার।












Discussion about this post