রাত পোহালেই বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তদারকি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। আগামীকাল তাঁর সরকারের নেতৃত্বে ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বাংলাদেশের ১২ কোটি ৭৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৮৩ তাদের পরবর্তী সরকার বেছে নেবেন। রাতের দিকে স্পষ্ট হয়ে যাবে, আগামী পাঁচবছর কারা বাংলাদেশ শাসন করবে। ভোট নিয়ে সর্বশেষ জনমত সমীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশ শাসন করবে বিএনপি। দ্বিতীয় স্থানে থাকতে চলেছে জামায়াত। এনসিপি, যাদের হাত ধরে বাংলাদেশে পালাবদলের সূচনা, তারা জনমানসে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। কোনও কোনও মহল থেকে আবার এটাও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বাতিলও হয়ে যেতে পারে। বিশেষ একটি গোষ্ঠী ভোট বানচাল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সাফল্যের মুখ দেখবে না কি বাংলাদেশের ১২ কোটির বেশি ভোটার তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, সেটাই দেখার বিষয়।
এই ভোট নেই আওয়ামী লীগ। দলনেত্রী হাসিনা এই ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে। ভোটের ঠিক আগের দিন দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে বেশ বাংলাদেশবাসীর জন্য বেশ কয়েকটি ডিজিটাল পোস্টার পোস্ট করা হয়েছে। সব বার্তার মূল সুর একটাই – ভোট বয়কট। কোথাও প্রশ্ন তোলা হয়েছে কাকে ভোট দিতে যাবেন? উত্তর সেখানেই দেওয়া হয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আওয়ামী লীগের জবাব – “যারা নারীর স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, তাদের বানিয়েছে হাতের পুতুল”। সব ডিজিটাল পোস্টারের প্রশ্ন সাধারণ – কাকে ভোট দিতে যাবেন। একটি ডিজিটাল পোস্টারে বলা হয়েছে – “যারা জায়গা দখলের জন্য গরিব-দুখীর ঘরে আগুন জ্বালিয়েছে”। অপর একটি পোস্টারে কাকে ভোট দিতে যাবেন প্রশ্নে বলা হয়েছে, “ যারা মামলা বাণিজ্য করে পরিবারকে জিম্মি করে টাকা নেয়”। একটি পোস্টারে সরাসরি ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, “ হ্যাঁ না বুঝি না, ভোট দিতেই যাব না। ”
অথচ ছবিটা গত কয়েক মাস আগেও কিন্তু এরকম ছিল না। সবাই ধরে নিয়েছিল আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তদারকি সরকার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধ প্রত্যাহার করবে। তাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশের ভোটের আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সে দেশ সফর করে। কথা বলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বশিরুদ্দিন, তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের সঙ্গে। প্রতিনিধিদল দেখা করে বাংলাদেশে বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল তদারকি সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল রইলেন। কোনও চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করলেন না। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে। তবে এই প্রথম নয়। হাসিনা এর আগেও বলেছিলেন, যেখানে নৌকা নেই, সেখানে ভোট নেই। স্লোগান ছিল নো বোট, নো ভোট। আর ভোটের আগে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরও একবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছে। ডিজিটাল পোস্টারে পাশাপাশি একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। আর এই বিবৃতি এল বাংলাদেশ যখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজপথ থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা।
প্রশ্ন হল হাসিনার ভোট বয়কটের ডাক কি কার্যকর হবে? দলের এই কঠোর অবস্থান কি ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে? দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি প্রহসন। এটা একটা নাটক। এটা জাতির সঙ্গে বেইমানি আর প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। দলের দাবি, বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ অপচয় করে এক পেশে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রকে উপহাস করা। সেই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে একটি সমঝোতার নির্বাচন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই বিবৃতি থেকে স্পষ্টে যে তারা এই ভোট বৈধ বলতে রাজি নয়। দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি তাদের আহ্বান, এই শঠতা ও কপটতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোট না দিয়ে গণতন্ত্র হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
ছবি সৌজন্যে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ












Discussion about this post