বাংলার এই আধুনিক গানটি মনে পড়ে – ‘এ ব্যথা কী যে ব্যথা, বোঝে কি আনজনে? ’
গানের একজায়গায় রয়েছে ‘অঙ্গে চোট পেলে – সে ব্যথা সারাবার/, হাজার রকমের ঔষধি আছে তার/মরমে চোট পেলে সারে না এজীবনে/সজনী আমি বুঝি মরেছি মনে মনে। /একে তো ফাগুন মাস দারুণ এ সময়, / লেগেছে ভীষণ চোট কি জানি কি হয়। ’
মাসটা ফাগুন নয়, ঘোর কার্তিক। আর অসময়ে ব্যথা লাগকে অবনী ঘোষের বিদ্যুৎ বাম মাখলেও সে ব্যথা সারে না। এমন ব্যথায় কাবু তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূ। তার কি আর একটা ব্যথা, একাধিক ব্যথা। হাসিনাকে নিয়ে তাঁর মাথা ব্যথা, জুলাই সনদ নিয়ে পায়ে ব্যথা। আবার আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত চারদিনের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে গলায় ব্যথা। খালি ব্যথা, ব্যথা আর ব্যথা। এত ব্যথা লাগলে কোন মানুষের মাথা ঠিক থাকে। যে জুলাই সনদ নিয়ে তিনি বুক ফুলিয়ে কত সুন্দর সুন্দর দেশবাসীকে শুনিয়েছিলেন, এই সেই জুলাই সনদ গলার ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের দেওয়া সাত দিনের সময়সীমা সোমবার শেষ হচ্ছে। এই নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
সূত্রের খবর, শুক্রবার বিএনপি বৈঠক ডাকে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সরকার এই জুলাই সনদ নিয়ে বৈঠক ডাকলে একমাত্র সেই বৈঠকেই তারা যাবে। এ বাদে কোনও দলের ডাকা বৈঠকে তারা অংশগ্রহণ করবে না। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছে, জামাতের আমন্ত্রণ সঠিক পন্থা নয়। এদিকে, জামায়াতের তরফ থেকে বিএনপির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়। সূত্রের খবর দলের কোনও নেতা সেই ফোন ধরেনি। যে কারণে জামায়াত রীতিমতো চটে চট্টরাজ। তারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বসেছে। এদিকে আবার জাতীয় নাগরিক পার্টি গণভোটের সময় নিয়ে কিছুটা নমনীয় হলেও তারা জানিয়ে দিয়েছে, জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট রাখা যাবে না। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলাদেশের একটি পত্রিকাকে জানিয়েছে, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনও না কোনও সমাধান সূত্র ঠিক বেরিয়ে আসবে।
তবে এই মুহূর্তে ইউনূসের মাথা ব্যথা আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকার ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে যেভাবেই হোক বানচাল করার জন্য সক্রিয়। সরকার মনে করছে, কোনওভাবে ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি সফল হলে ওই দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিকমহল থেকে চাপ আরও বাড়বে। এমনিতেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন যমুনাভবনের বাসিন্দা। এর মধ্যে আবার ওই দলের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলেও সেটা তদারকি সরকারের পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। গোয়েন্দারা খবর পেয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পুলিশের সদর দফতর থেকে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এক পদস্থকর্তা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কর্মসূচি সফল হলে, সরকার রীতিমতো চাপে পড়ে যাবে। তাই, সরকার চাইছে যে কোনও মূল্যে ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি বানচাল করতে।
একটি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার কাজটি যে কত কঠিন সেটা একমাত্র তাঁরাই বলতে পারবেন, যারা কাজটি করেছেন। একটি...
Read more











Discussion about this post