বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, নতুন নোট ছাপা হবে। এর কারণ ইতিহাস মুছে ফেলা, অতীত মুছে ফেলার লক্ষ্য তদারকি সরকারের। শুধু তাই নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য সরকারের। যার জন্য খরচ হয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। বলছেন সেদেশের ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের যা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, এই অঙ্কটা বিপুল। দেশকে ধ্বংস করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইউনুস? সাধারণত বছরের দু বার টাকা ছাপানো হয়। কারণ বাংলাদেশের যে নোট গুলি রয়েছে, সেগুলির লাইফটাইম এক বছরও নয়। ছয় বা আট মাস। ফলে খারাপ হয়ে যাওয়া নোটগুলি বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়ে তার পরিবর্তে নোট ছাপানো হয়। টাকা ছাড়তে বাৎসরিক ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু এবারের বিষয়টি একেবারে আলাদা। কিন্তু এবারে সমস্ত নোটগুলিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ ওই নোটগুলি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি রয়েছে। আর সমস্ত নোট পাল্টে ফেলতে ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ। বাংলদেশে ব্যাংকের সূত্র বলছে, একটি এক হাজার টাকার নোট ছাপতে লাগে ৫ টাকা। ৫০০ টাকার নোট ছাপতে লাগে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। ২০০ টাকার ছাপতে লাগে ৩ টাকা ২০ পয়সা। ১০০ টাকার নোট ছাপতে লাগে ৪ টাকা। ৫০,২০,১০ টাকার নোট ছাপতে লাগে ১ টাকা ৫০ পয়সা। এবং ১ টাকা ২ টাকা নোট ছাপতে লাগে ১ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু এগুলি প্রিন্টিং খরচ। কিন্তু এখন এগুলির নতুন করে ডিসাইন করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই নতুন নকশার ছয়টি নোটের ছবি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক। নোটগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫০০, ২০০, ১০০ ও ১০ টাকার নোট। এবং ৫ টাকা ও ২ টাকার নোট জারি করা হয়েছে। এই সমস্ত নোটে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকগুলোকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি নোটেই রয়েছে নতুন গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষর। তবে কোনও নোটেই নেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি। তবে অনেকেই বলছেন, এটা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। বঙ্গবন্ধুর সমস্ত স্মৃতিকে মুছে ফেলার জন্য সমস্ত ধরনের উদ্দ্যেগ নিয়েছে এই সরকার। তবে সবথেকে বেশি বিতর্ক ছড়িয়েছে ২০০ টাকার নোট নিয়ে। নতুন ২০০ টাকার ব্যাঙ্ক নোটের নকশা। তাতে এক পিঠে বাংলাদেশের একটি ম্যাপ ছাপা হয়েছে, যা মোটেই বর্তমান বাংলাদেশের ম্যাপ নয়। সেখানে রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম রয়েছে ঠিকই। তারমধ্যে ওই দেশের কিছু অংশকে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ওই ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটা রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্সকে। এছাড়াও আসল বাংলাদেশের ম্যাপ রংপুর অনেকটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। কিন্তু নোটে দেখানো হয়েছে ছোট করে। এমনকি সিলেট ও চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। ম্যাপ অনুযায়ী সিলেটের উপরে রয়েছে ভারতের মেঘালয় এবং নিচ অংশে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা। তবে কি বাংলাদেশই নিজেদের কিছু অংশ ম্যাপের মাধ্যমে ভারতে ঢুকিয়ে দিল? এমনকি কিছু নোট জুলাই আন্দোলনের গ্রাফীতি তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি টাকার মধ্যে মন্দিরের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এই সরকারের আমলে তো সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত। অন্তত অভিযোগ সেটাই ওঠে। তবে কি সেটা ঢাকতে এই উদ্যোগ? তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভঙ্গুর। আর সেখানে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে ফেলার জন্য তেইশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা কতটা বাঞ্ছনীয়, এই প্রশ্নটাই উঠছে।












Discussion about this post