ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় মহা বিপাকে পড়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে উপদেষ্টাদের থেকে শুরু করে সেনাকর্তাদের অনেককেই। মঙ্গলবার যেমন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সি আর আবরার। কার্যত ৯ ঘণ্টা তাঁদের ক্যাম্পাসের ভিতর অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ-সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসন। কিছুটা সময় অবরুদ্ধ ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। এর আগে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল জামাতের আমীরকে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার নাগাদ বাংলাদেশের দুই উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সি আর আবরার-সহ অন্যরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়েছিলেন। স্কুলের যে ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেখানেই তাঁরা প্রথমে পরিদর্শন করেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁদের ঘিরে ধরেন। এমনকি সে সময় তাঁদের উদ্যেশ্যে ভুয়া–ভুয়া স্লোগানও দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-সহ অন্যরা স্কুলের একটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এবং সেখানেই প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিমান দুর্ঘটনার পর বহু দেহ লোপাট করে দিয়েছে সেনা। অনেক পড়ুয়া, শিক্ষক এখনও নিখোঁজ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও মৃত ও আহতদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করছে না। কলেজের বাইরে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যান এই সময়। এমনকি ভিড় জমে যায় হাসপাতালগুলির বাইরেও। সর্বত্রই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে থাকেন সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর সেখানে স্থানীয় যারা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তাঁদের হঠিয়ে দেয়। এমনকি সাংবাদিকদেরও কাজ করতে বাঁধা দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, বাহিনী বহু দেহ লোপাট করে দিয়েছে। একসময় জনবিক্ষোভ মোকাবিলায় কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সেনা ও পুলিশ। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকটি কাজ জনগণের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে সাহায্য করছে। স্কুল চলাকালীনই যখন একটি যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে আগুন লেগে যায়, তখন কতজন আহত ও নিহত হতে পারে তার ধারণা দিতে পারেনি সরকার। এমনকি মাত্র ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে জানানো হলেও নিঁখোজের প্রকৃত সংখ্যা জানানো হয়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি ইতিমধ্যেই দাবি করছে, বহু মানুষ তাঁদের সন্তান বা প্রিয়জনকে ৪৮ ঘণ্টা পরও হন্যে হয়ে খুঁজছেন। তাই ক্ষোভ বাড়ছে দিকে দিকে। আর সেই ক্ষোভেরই বহিপ্রকাশ ঘটছে ঢাকায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে ঢাকার ওই হাসপাতালগুলিতে অগ্নিদগ্ধের চিকিৎসার যে বন্দোবস্ত ছিল হাসিনা আমলেও তা এখন আর নেই। তাই হাসপাতালগুলি কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দিয়ে সত্য ঢাকতে চাইছে সরকার। যে ভারতকে দিন-রাত দোষ দিয়ে একটা ভারত-বিরোধী জিগির তুলছিল মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ও জামাত-এনসিপি নেতারা। সেই ভারতই ঢাকায় মেডিকেল টিম ও আধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে আগামীদিনে প্রধান উপদেষ্টাও ঘোরাও হবেন সাধারণ মানুষের কাছে। সেদিন আসতে দেরি নেই।












Discussion about this post