বাংলাদেশ রেলওয়ের এমনিতেই করুন দশা। বিগত কয়েকমাসে অসংখ্য ছোট-বড় রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে লড়ঝড়ে কামরা নিয়ে। বাংলাদেশে কোনও রেল কোচ কারখানা নেই, ফলে সবটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এবার ট্রেনের কামরার সমস্যা মেটাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারত থেকে ২০০ এলএইচবি কোচ আমদানি করছে।
বাংলাদেশ মূলত ভারত, চিন, কোরিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ট্রেন কোচ আমদানি করে। ট্রেনের ইঞ্জিন আমদানি করা হয় আমেরিকা ও কোরিয়া থেকে। যদিও ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশকে ৩০টি ডিজেল ইঞ্জিন উপহার স্বরূপ দিয়েছে। কিন্তু তবুও বাংলাদেশে রেল কোচ ও ইঞ্জিনের অভাব প্রকট। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনোমিক সার্ভিসেস (রাইটস) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই সংস্থা বাংলাদেশ রেলের জন্য ২০০টি আধুনিক এলএইচবি কোচ তৈরি করে রফতানি করবে। সূত্রের খবর, ২০ মে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভবনে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলেন, “আমাদের ক্যারেজের খুব সমস্যা। এই মুহূর্তে ভারত যে ক্যারেজ দিচ্ছে এর জন্য ধন্যবাদ”। তিনি আরও জানান, “আগামী দুই মাসের মধ্যে দুই সেট ক্যারেজ (সম্পূর্ণ ট্রেন সেট) পাওয়া গেলে আমাদের জন্য ভালো হবে। বাকিগুলো ধীরে ধীরে পাওয়া গেলেই হবে”। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানানো হচ্ছে, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। ফলে নতুন নতুন ট্রেন চালু করার দাবি উঠছে। এই মুহূর্তে অন্য ট্রেনের রেক নিয়ে নতুন রুটে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। ভারত থেকে রেক এসে গেলে সুবিধা হবে নতুন ট্রেন চালাতে।
অপরদিকে, ভারতীয় রেলের সহযোগী সংস্থা রাইটস জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ডাকা গ্লোবাল টেন্ডারে সর্বনিম্ন দর দিয়ে এই বরাত পেয়েছে সংস্থা। মোট বরাতের দর ১১১.২৬ মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯২৪৭ কোটি টাকা। রাইটস আরও জানিয়েছে, এই চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে, রেল কোচের ডিজাইন, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং কোচগুলির প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে ২০০টি এলএইচবি কোচ ধাপে ধাপে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সরবরাহ করবে রাইটস। কোচগুলির জন্য পরবর্তী দুই বছরের ওয়ারেন্টিও দেওয়া হবে।












Discussion about this post