বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের হাল এখন কতটা বেহাল? এ সরকার কতদিন দেশের ক্ষমতায় থাকবে? বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে চাইছেন মোহাম্মদ ইউনুস? আর যদি নির্বাচন করাতেও চান তবে মোঃ ইউনুস তার মদতে যে দলগুলি তৈরি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি সহ আরো বহু দল অর্থাৎ কিংস পার্টি। কিন্তু এই কিংস পার্টির আগেও মোহাম্মদ ইউনুস বড় বড় তিনটি রাজনৈতিক দল গঠন করে ফেলেছেন। এই দলগুলি বিএনপির আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দল না হলেও রাজনৈতিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যথেষ্ট, এরকম কয়েকটি দলকে এন সিপি ও কিংস পার্টির মাথা হিসাবে মহম্মদ ইউনুস গঠন করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থায় ।
কিন্তু দেশ জুড়ে বিশৃঙ্খলা যেন থামছে না।২০২৪ এ উত্তাল হতে দেখা গেল বাংলাদেশ। সেই সময় সরকার পতনের পর গঠিত হয় মোহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর সেই সরকারের জমানায় ফের মবের মুলক হয়ে ওঠে পদ্মাপাড়ের দেশ। শুরু হলেও চারিদিকে নারী নির্যাতন ধর্ষণ লুটপাট খুন গুম ইত্যাদি। সরকার সেখানে নির্বিকার। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল না। কারণ বেশ কিছুদিন আগেই সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কড়া ভাষায় জানানো হলো দেশে মব ভায়োলেন্স বরদাস্ত করবে না সেনাবাহিনী। তখন সেনাবাহিনীর তরফে করা ঘোষণার মাধ্যমে অনেকেই মনে করেছিলেন দেশজুড়ে মত সৃষ্টিকারীরা আতঙ্কে পিছু হটবেন। কিন্তু মব সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর এই বার্তায় আতঙ্কিত না হয়ে উপরন্ত একের পর এক থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে মেতে উঠলো, যেমন প্রথমেই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্র-জনতা। কেএমপির সদরদফতরে তালা মেরে সামনের খান জাহান আলী সড়ক অবরোধ করেন তারা। এসময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, নগরীতে বারবার খুনের মতো ঘটনা ঘটলেও কমিশনার জুলফিকার আলী নগরবাসীকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা করেন তারা। এখানেই থেমে থাকে নি এই মব সন্ত্রাসীরা, গত মঙ্গলবার রাতে পটিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে পটিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর নামে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চায়নি। এরপরই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রনেতারা।এবং পটিয়া থানার ওসিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে থানা চত্বর। অন্যায় দমন করতে গিয়ে অন্যায় এর শিকার হতে হয় ওই পুলিশকর্তকে। এর পরই পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্তির পদত্যাগের দাবি তোলে ছাত্রনেতারা। অর্থাৎ পরপর দুটি থানা ঘেরাও এর ঘটনা ছাত্রদের এই মব ভায়োলেন্সকে নতুন একটি মাত্রা দিয়েছে। এখন এই মব ভায়োলেন্সার এর পরিধি আরও কতদূর বিস্তৃত হয় সেটাই দেখার। পাশাপাশি যে সরকারের অধীনে দেশে একের পর এক প্রকাশের গণধর্ষণ করা হয় এবং সরকারের তরফে কোন বিচার করা হয় না সেই রাষ্ট্রের সরকারের ক্ষমতা কতদিন বহাল থাকে সেটাও সময়ই বলবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার জন্য কোনওভাবেই ভারত দায়ী নয়। এটা আসল সমস্যা থেকে ঢাকার নজর ঘোরানোর চেষ্টা, বলে স্পষ্ট জানাল ভারত। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ইউনুসের দাবি ছিল, ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী। কিন্তু সাউথ ব্লক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল ছাড়া কিছু নয়।











Discussion about this post