দেখে নেব, বলেছিলেন বাংলাদেশের এক নেতা। কার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন। একজনের বিরুদ্ধে নয়। বহুজনের বিরুদ্ধে। সেই নেতার নিশানায় ছিলেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস, নির্বাচন কমিশন, সেনা। কে যে তাঁর তালিকায় নেই, সেটা বলা ভারি মুশকিল। সেই দেখে নেওয়ার জন্য ওই নেতার নেতৃত্বে একটি মিছিলও বেরিয়েছিল। যে দলকে দেখে নেবেন বলে তিনি ডাক দিয়েছে, তাঁর নেতৃত্ব মিছিল সেই দলের দফতরের সামনে হাজির হলে পুলিশ আর ওয়াকার-বাহিনী রাম প্যাদানি দিয়েছে। শুধু তাঁকেই নয়, মিছিলে সামনের সারিতে যে সব নেতারা ছিলেন তাদেরও। মানে একটা মারও বাইরে পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ডান্ডার জোর কত। বেশকিছুদিন তিনি হাসপাতালে ছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর ফের হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে গান গাইতে শুরু করেছেন।
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন গণ অধিকার পরিষদ। তারা অগাস্ট মাসের শেষের দিকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন নুরুল হক, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে তারা হাজির হতেই সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে তাঁদের পিটিয়েছে। দলের দাবি, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের দোসরদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়নি। অবিলম্বে এদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু তাদের দাবি মেনে সরকার যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করবে না সেটা এতোদিনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁর কারণও আছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাটা যে কতটা ভুল হয়েছে, সেটা এখন তদারকি সরকার বেশ ভালো রকম টের পাচ্ছেন। দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ভারত থেকে বটেই আন্তর্জাতিকমহল থেকে ক্রমাগত চাপ আসছে। সেই চাপ না সামাল দিতে পারছেন মহামহিম ইউনূস, না পারছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। তারা যে ফিরছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এবার জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি যে জটিল থেকে জটিলতর হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই ঝুঁকি নেওয়ার ঝুঁকি নিতে নারাজ ইউনূস এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। শুধু জাতীয় পার্টি কেন, এই মুহূর্তে তদারকি সরকার তথাকথিত ফ্যাসিবাদী দলগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সাহস দেখাবে না। আসলে ভয় অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে আসতে না পারে, তাহলে জাতীয় পার্টি অবধারিতভাবে আসবে। ফলে, তাদের ক্ষমতায় আসীন হওয়া খুব কঠিন নয়।
আসলে গণঅধিকার পরিষদের এই বাড়বাড়ন্তের পিছনে রয়েছে জামাত এবং জামাত-সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি। তারাও চাইছে অবিলম্বের তদারকি সরকার প্রধান জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করুক। ড. ইউনূস কিন্তু এই সব দাবিকে আমল দিতে নারাজ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল রিপাব্লিকান ইন্সটিটিউট (আইআরই) জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক হয় গত ২২ অক্টোবর, সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের চেয়ারম্যান গোলাম মহম্মদ কাদের, মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি, প্রেসডিয়াম সদস্য হাজি সইফুদ্দিন আহমেদ মিলন এবং উপদেষ্টা মেজর (অব.) মো মাহফুজুর রহমান। আইআরই-য়ের প্রতিনিধিদলকে তারা জানিয়ে দেন, বর্তমান তদারকির সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনওভাবেই সম্ভব নয়। সংবিধানের প্রসঙ্গে টেনে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভোটের কোনও সংস্থান নেই। তাই, এই মহূর্তে গণভোট করা হবে অসাংবিধানিক। তবে জাতির প্রয়োজনে গণভোট করা যেতেই পারে।
আইআরই যে কতটা প্রভাবশালী একটি সংগঠন, সেটা যাঁদের জানার, তারা ঠিক জানেন। ইউনূস যে ভুল করেও জাপাকে নিষিদ্ধ করবে না তা স্পষ্ট।












Discussion about this post