শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। তার পর থেকে বিগত ১৫ মাসে বাংলাদেশে আর কোনও মার্কিন রাষ্ট্রদূত আসেনি। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে ট্রেসি অ্যান জেকবসন দায়িত্ব পালন করেছেন এতদিন। এবার তাঁর অব্যাহতি, কারণ ঢাকায় আসছেন পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ট ক্রিস্টেনসেনকে পাঠিয়ে একটা বড় বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই বার্তা টের পেয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের রাতের ঘুম ছুটেছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদে বসে মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম থেকেই কয়েকটি গোষ্ঠীকে খুশি করার কাজে নেমে পড়েছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ এক অবস্থানে রাখতে চেয়ে তিনি একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে ওয়াশিংটনের কথা মতো যেমন চলছিলেন। তেমনই আবার বেজিংকেও সঙ্গে রাখার কৌশল নিতে গিয়েছিলেন। আর এতেই মুখ থুবড়ে পড়ে তাঁর কূটনীতি। জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবে প্রথমেই এক অপ্রকাশযোগ্য সমঝোতায় স্বাক্ষর করে দিয়েছিল ঢাকা। এর ফলে বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচ্চ শুল্ক অনেকটাই কমিয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ওই অপ্রকাশযোগ্য বা নন ডিসক্লোজার প্যাক্টে কি কি শর্ত আছে তা ফাঁস হয়ে যায়। জানা যায়, চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোনও লেনদেন করা যাবে না এমন শর্ত রেখেছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু ঘরোয়া চাপে সেই শর্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। চিনের সঙ্গে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি করে বাংলাদেশ। এই চুক্তি মোতাবেক চিনের সংস্থা থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সি ফাইটার জেট কিনছে বাংলাদেশ। আর এতেই বেজায় চটেছে ওয়াশিংটন।
সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউনূসকে চাপে রাখতেই গত ২ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের শেষ দিকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় আসবেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের একজন ক্যারিয়ার সদস্য। এর আগেও তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব সামলেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯-২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার এও জানা যাচ্ছে, এই ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তীব্র চিন বিরোধী একজন আমলা।
উল্লেথ্য, সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাস এবং তাঁদের কর্মীদের উপর হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় দূতাবাস কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দাদের দেওয়া হামলার পরিকল্পনাকারী জঙ্গিদের সম্পর্কে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে। এরপর, বাংলাদেশ শামিন মাহফুজ নামে একজনকে গ্রেফতার করে। যাকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সাথে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে, ইউনূসের উপরে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সেই ক্ষোভের আগুন আরও চেগে গিয়েছে। ফলে ইউনূসকে টাইট দিতেই চিন বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে স্যমক ধারণা রাখা সিনিয়র কূটনৈতিককে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত করে পাঠালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা ইউনূসের জন্য মোটেই সুখকর নয়।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post