ফের সংবাদের শিরোনামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তথা সাংসদ হাসনাত আবদুল্লা। শুক্রবার তিনি গিয়েছিলেন নিজের নির্বাচনী এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। শোনেন তাদের সমস্যার কথা। স্থানীয়রা এই ইটভাটা নিয়ে তাদের সমস্যার কথা সাংসদকে জানান। হাসনাত আবদুল্লা খবর পান এই ইটভাটার মালিক কুমিল্লার অপর এক সংসদ সদস্য মণিরুল হক চৌধুরীর মেয়ে সায়মা ফেরদোস। হাসনাত বাসিন্দাদের বলেন, ইটভাটার মালিক যতই হেভিওয়েট নেতা হোক না কেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না। সেখান থেকে তিনি ফোন করেন সায়মা ফেরদোসকে। কে এই সায়মা ফেরদোস? প্রথম পরিচয় তিনি অধ্যাপক। আর দ্বিতীয় পরিচয় হাসনাতের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গী। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে যাওয়া একসময়ের আন্দোলনের সঙ্গী এখন তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। সায়মা ফেরদোস জানিয়েছেন, তার নাম ভাঙিয়ে ওই ইটভাটা চালানো হচ্ছে। যারা এটা করছে, তাদের বেঁধে রাখা উচিত। ব্যাপারটা এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে হাসনাতের সমর্থক এবং সঙ্গী সাথিরা এই ইটভাটার জন্য সরাসরি দায়ী করেন সাংসদ মণিরুল এবং বিএনপি। ফলে বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। মণিরুল হক চৌধুরী সংসদে এর জবাবও দিয়েছেন। সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে প্রবীণ এই সাংসদ সদস্য বলেন, “একটি কথা মনে করবেন। স্বাধীনতার পর একটা মেধাবী শ্রেণির আগমন ঘটে। তারা গঠন করে জাসদ। বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে দেশ গিয়েছে, জাতি গিয়েছে, তারাও গিয়েছেন”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, তাঁর এই বক্তব্যের লক্ষ হাসনাত আবদুল্লার মতো জুলাই যোদ্ধারা, যার আচমকাই মিডিয়ার সব আলো শুষে নিয়েছিল। ”
সংসদে প্রবেশ করার পর থেকে সংবাদের শিরোনামে চলে আসেন হাসনাত আবদুল্লা। বলা যেতে পারে, শপথ নেওয়ার দিন থেকে। হাসনাত স্পোর্টস জার্সি পরে শপথ নেন। তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম আলোচনা হয়নি। তারপর সংসদে স্পিকারের সঙ্গে তর্কাতর্কি। কোনও না কোনও কারণে এই সাংসদ মিডিয়ার নয়নমণি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে প্রথম ২১ দিনের কাজের হিসেব দিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সাম্প্রতিক অতীতে কোনও সাংসদকে এভাবে জবাবদিহি করতে দেখা যায়নি। রাজনৈতিকমহলের একাংশ হাসনাতের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। ফেসবুক লাইভে তিনি সরকারি বরাদ্দ, উন্নয়ন প্রকল্প সহ বহু বিষয় উত্থাপন করেন। জনগণের কাছে জবাবদিহির জন্য হাসনাত ফেসবুকে নতুন একটি পেজ চালু করেন। পেজের নাম রেখেছেন জবাবদিহিতা।
খেজুর। ফলটার স্বাদ বেশ মিষ্টি। কিন্তু কোনও দেশের সাংসদ যদি খেজুর বিক্রির কথা বলেন, তাহলে ব্যাপারটা দাঁডায় খেজুরে আলাপ। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলড হতে বেশিক্ষণ লাগে না। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সাংসদ হাসনাত আবদুল্লা একটি লাইভে জানান দেবিদ্বারে ৩৯ বাক্সে মোট ৩১২ কেজি খেজুর এসেছে। সেইগুলি তিনি মাদ্রাসাগুলোতে বিতরণ করা হবে। বিতরণ কীভাবে হবে, তারও হিসেব দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লা। সংবিধান অনুসারে একজন সাংসদের অনেক দায়িত্ব। তবে মূল দায়িত্বের একটি হল আইন প্রণয়ন, দ্বিতীয়টি বাজেট পেশ করা। কেউ শুনেছেন একজন সাংসদ যাবতীয় সংসদীয় কাজ স্থগিত রেখে ঠিক করলেন খেজুর বিলি করবেন। বন্যা হলে সাংসদ তাঁর নিজের এলাকায় ত্রাণ বিলি করেন। মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হলে সাংসদ দায়িত্বের সঙ্গে তাদের উদ্ধার করেন। তাই বলে খেজুর বিলি! আর তার ফলে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। নিজের দলের লোকই হাসনাতের এই কাণ্ডকারখানা নিয়ে বিরক্ত। জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু জানিয়েছেন, “হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি না হলে জনগণ জানতে পারত না যে সরকার খেজুর বিলি করে। ” তার মতে, এমনকী খেজুর পেলেও মানুষ মনে করত এটি স্থানীয় কোনও নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে।
হক কথা।












Discussion about this post