বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, “জলে বাঘ ডাঙায় কুমির”। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে আরও ভয়ানক পথ। যেমন ডাঙায় বাঘ আছে, জলে কুমির আছে তেমনই আকাশে বাজ পাখি উড়ছে। অর্থাৎ উভয় সংকটের চূড়ান্ত অবস্থা। কেন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হল? একমাত্র উত্তর হল অতি লোভ, বা ক্ষমতার লোভ। ৮৪ বছরের মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হয়ে এসেছিলেন গত বছর গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর। বাংলাদেশের জনগণ আশা করেছিলেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশকে সোনায় মুড়ে দেবেন। কিন্তু এক বছরের মাথায় তাঁর স্বরূপ ইতিমধ্যেই ধরতে শুরু করেছেন সে দেশের সাধারণ মানুষ। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন তিনি বাংলাদেশের কূটনৈতিক দিকগুলি দারুণভাবে পরিচালিত করতেন। তিনি দুই বৃহৎ শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চিনের সঙ্গে সম দূরত্ব বজায় রেখে দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। সেই সঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে শেখ হাসিনা ধরি মাছ না চুই পানির মতো সম্পর্ক রেখেছিলেন। ভারত ও চিন বাংলাদেশে বড় বড় লগ্নি করেছিল, তাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছিল। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসে সেই সমীকরণ পাল্টে দিলেন। প্রথমে চিনের সঙ্গে মাখামাখি ও ভারতের সঙ্গে দূরত্ব এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পন করলেন। ভারত যেমন আগেই ক্ষুব্ধ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন চুক্তি হতেই চিন ক্ষুব্ধ হল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দিক থেকে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
গত বছর মার্চ মাসে বেজিং সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সফরেই চিনের থেকে ১২টি জে-১০সি আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে সমঝোতা করে এসেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সূত্রের খবর, সেবারই ইউনুস চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের সঙ্গে এই সংক্রান্ত মৌ স্বাক্ষর করেছিলেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক জে-১০সি যুদ্ধবিমানগুলি খুবই উপযোগী হতো। কারণ, এই জে-১০সি যুদ্ধবিমানগুলি চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট। কিন্তু কয়েকমাসের মধ্যেই চিনের যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ। আদৌ সেই বিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনী হাতে পাবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাখাইন মানবিক করিডোর ইস্যু নিয়ে যে সমঝোতা হয়েছে সেটাই এখন গলার কাঁটা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই শুল্কযুদ্ধে নেমেছেন। তিনি বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপরেও ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছিলেন। পরে এক গোপন চুক্তির ফলে সেই শুল্কহার কমিয়ে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জানা যায়, সেই গোপন বা অপ্রাকাশযোগ্য চুক্তিতে বিভিন্ন শর্তের মধ্যে অন্যতম হল, বাংলাদেশ কখনই চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কিছু লেনদেন করতে পারবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই শর্ত মানতে হলে চিন থেকে ১২টি জে-১০সি জঙ্গিবিমান কেনার যে সমঝোতা হয়েছিল, এখন তা বাতিল করতে হবে। না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে বাংলাদেশের উপর। অন্যদিকে, মার্কিন শুল্কধাক্কার পর ভারত-চিন ও রাশিয়া একজোট হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। এই আবহে বাংলাদেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে করিডোর বা সামরিক বেস দিতে চায় তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যা মনোভাব, তাতে মুহাম্মদ ইউনূস যদি করিডোর বা বেস স্টেশন দিতে না পারেন, তাহলে তাঁর ক্ষমতাও চলে যাবে এক লহমায়। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এই উভয় সংকটের মধ্যে পড়ে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘণিষ্ঠতা বাড়িয়ে তিনি একযোগে চিন, রাশিয়া ও ভারতের চক্ষুশূল হয়েছেন। তাই সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য। সেই সঙ্গে ইউনূসের ব্যর্থ বিদেশনীতির জন্য বিপাকে পরতে চলেছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।












Discussion about this post