বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় অডিও বার্তার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করেছেন। হঠাৎ করে শেখ হাসিনা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তারা চান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। তিনি মহম্মদ ইউনূসের অধীনে নির্বাচন চান না। এমনকি শেখ হাসিনা এখনও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিজেকে দাবি করেন। অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনা পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। তিনি জানেন, কোন কৌশলীর মাধ্যমে ভোট ব্যাংকের রাজনীতিতে জয় ছিনিয়ে নিতে হয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সবথেকে বড় শক্তি হল, ভোট ব্যাংক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যতই আওয়ামীলীগ বা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাক, দেশের মানুষের মনে এখনও আওয়ামী লীগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, গোপালগঞ্জের ঘটনা সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে, আওয়ামী লীগকে আটকানো মুশকিল। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তবে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হোক না কেন, আওয়ামী লীগকে আটকানো অত্যন্ত কঠিন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে কয়েকটি জায়গাতে ঠিক করতে হবে। একটি হল আত্মশুদ্ধি এবং ন্যায্য। আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করতে হবে, সাধারণ মানুষের মনোভাব এবং তাদের কথায় হল শেষ কথা। তবে নির্বাচনই হল আওয়ামী লীগের উঠে দাঁড়ানোর একমাত্র পথ। এর মধ্যে দিয়েই তারা দেশে ফের বিরাজ করতে পারবে।
কিন্তু যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হচ্ছে, সেটা কি আদৌ ফিরবে? জানা যাচ্ছে,
বহু আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগামী ২১ অক্টোবর এই বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের রিভিউ আবেদনের শুনানি ছিল। বিএনপি’র পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামাত সহ আরও একটি পক্ষ থেকে এই সংশোধনীর রায় বাতিলের রিভিও অবদনের শুনানি। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার পথ সুগম হয়েছে। পুরোপুরি ফিরে এসেছে, সেটি বলা যাবে না। তবে এই রিভিউ অবদনে বিষয়টি গ্রাহ্য হয়েছে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয়, তবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ফের ফিরে আসবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post