প্রতিবেদনের সূত্রে – ‘অল কোয়াইট ইন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ ছবি উল্লেখ করা যেতে পারে। ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে অল কোয়াইট অন দ্য নর্দান ফ্রন্ট। আক্ষরিক অর্থেই তাই।
কিছুদিন আগেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছিল চরম উত্তেজনা। উত্তরপাড়া আচমকাই সক্রিয় হয়ে ওঠে। লালমনির হাট সেনা ছাউনি পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। পাকিস্তান থেকে সে দেশে গিয়েছিল উচ্চপর্যায়ের এক সেনা প্রতিনিধিদল। তাঁরা ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করে। গিয়েছিল উত্তরপাড়া। বাংলাদেশের সঙ্গে এদিকে আবার চিনের মাখামাখি শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় দিল্লির সাউথব্লক এবং সেনাসদন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে নারাজ। চিনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান শিলিগুড়ির চিকেন নেক-য়ের ওপর যে কোনও সময়ে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সাউথব্লক। সেই হামলার সমুচিত জবাব যাতে সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া যায়, তার জন্য ভারতও প্রস্তুত।
২২ নভেম্বর শিলিগুড়িতে হয়ে গিয়েছে হাইভোল্টেজ মিটিং। বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দফতরে। সেই বৈঠকে ছিলেন সিআইএসফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি, আরপিএফ, ভারতীয় সেনার তিন শাখার কর্তারা। ছিলেন সেনা গোয়েন্দা, রাজ্য গোয়েন্দা, সেন্ট্রাল রোড অথরিটি এবং এশিয়ান হাইওয়ে অথরিটির শীর্ষকর্তারা। সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, এই বৈঠক রুটিন। কিন্তু এই বৈঠক কোনওভাবেই রুটিন বৈঠক নয়। সীমান্তের সুরক্ষা নিয়ে মূলত সেনা এবং বিএসএফ রুটিন বৈঠক করে। কিন্তু ২২ নভেম্বরের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা এখন আর গোপন নেই। তাই, এটাকে কোনওভাবেই রুটিন বৈঠক বলা যায় না। হাইভোল্টেজ মিটিংয়ের কারণ এখন খুব স্পষ্ট।
বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিষানগঞ্জ ফরোয়ার্ড বেস তৈরি। তৈরি চোপড়ার ফরোয়ার্ড বেশ। বাংলাদেশ সীমন্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে চোপড়া সেনাছাউনি। ইতিমধ্যে ভারত সে দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত রেখেছে। ফলে, আর্থিকভাবে বাংলাদেশ এখন অনেক দূর্বল। ১ ডিসেম্বর ভুটান থেকে ভারত ভূখণ্ড হয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছিল একটি পণ্যবাহী ট্রাক। ভারত সেই ট্রাক আটকে দেয়। পরে অবশ্য সেই ট্রাককে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভারতের তরফ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তা দেওয়া হল যে ভারত ভূখণ্ড দিয়ে সে দেশের জন্য পণ্য বাহী ট্রাক আটকে রাখার ক্ষমতা রয়েছে। ভারতের জমির ওপর দিয়ে যেতে হলে ভারতের ছাড়পত্র লাগবে। সেটা কখন দেওয়া হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারতের ওপর।
বিশ্বব্যাঙ্কের একটি রিপোর্ট বলছে, ভারত সে দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করে দেওয়ায় বাংলাদেশ আর্থিক দিক দিয়ে রীতিমতো দূর্বল হয়ে পড়েছে। সাউথব্লকের একটি উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। তাদের দ্বিতীয় মিশন হল সামরিক দিক থেকে বাংলাদেশকে চাপে রাখার। আর ঢাকা এবং উত্তরপাড়া যদি মনে করে তারা সীমান্তে হামলা চালাবে, তাহলে তারা চরম ভূল করবে। তার ইঙ্গিত কিন্তু দিয়ে রেখেছেন আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বলেছিলেন – ঘুসকে মারেঙ্গে।
তার ক্ষেত্র প্রস্তুতির কাজ চলছে এখন সীমান্তে। বিশেষ করে শিলিগুড়ির চিকেন নেককে কেন্দ্র করে। হামলা হলে পালটা হামলা হবে। এক ইঞ্চি জমি যে বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়া হবে না, সেই উদ্দেশ্য সফল করতে সাউথব্লক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।












Discussion about this post