পদ্মাপারে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এল বিস্ফোরক খবর।
দেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি সেনাবাহিনী বিরোধী ঐক্য দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে এই জোট সেনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারে। আকারে, ইঙ্গিতে অথবা প্রকাশ্যে বাহিনীকে গালমন্দ করা একটি সাধারণ নিয়মে পরিণতি হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর আগাগোড়া একটি ভূমিকা পালন করে এসেছে। বাংলাদেশ সেনার হাতেই খুন হয়েছেন সে দেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান। এই সেনাবাহিনী, তিনটি তিনটি সামরিক শাসন বাংলাদেশে কায়েম করেছে। বর্তমানে বলা হচ্ছে পর্দার আডা়লে থেকে তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পিছনে যে সেনাবাহিনীর হাত রয়েছে, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। বাহিনী তাঁর কম্যান্ড ফলো করেনি। অনেকে এটাকে সেনা-বিদ্রোহ হিসেবেই দেখছে। সেনাবাহিনী যদি শুধুমাত্র ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হাসিনা যেভাবে পুলিশকে সাজিয়ে ছিলেন, তেমনভাবে সেনাবাহিনীকেও সাজাতে পারতেন। কিন্তু হয়েছে তাঁর উল্টো। পদ্মাপারে রাজনৈতিকমহল বলছে, সেনাবাহিনী হাসিনার নির্দেশ পালন করলে পরিস্থিতি অন্যরকম হত। কিন্তু ওয়াকার ইউনিট কার্যত হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করে। যারা আগামীদিনে ক্ষমতায় আসবে, তারা এখন থেকেই বাহিনীকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করছেন।
কিন্তু বাংলাদেশ সেনা চরিত্রই হল, তাদের জন্য রাষ্ট্রের তরফে কিছু করা হলেও তারা সেই অবদান ভুলে যায়। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে। যে কারণে, বাংলাদেশ তিনটি সামরিক শাসন দেখেছে। বর্তমানে খাতাকলমে সেখানে একটি তদারকি সরকার থাকলেও দেশ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় যে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার খুব হার্দিক সম্পর্ক হবে, এমনটা ধরে নেওয়াটা ঠিক হবে না। এমনকী এই আশঙ্কাও করা হচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের হাতে বাংলাদেশ শাসনের দায়িত্ব গেলে, তারা সেনাবাহিনীতে সংস্কার আনবে। প্রসঙ্গত, ওয়াকার উজ জামানকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ করেছিলেন হাসিনা। তিনি তাঁর আবার নিকট আত্মীয়। সেনাপ্রধান ওয়াকার যে তাঁর সঙ্গে কোনওদিন বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন, সেটা তিনি একবারের জন্য কল্পনা করতে পারেননি।
প্রথম দিকে ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সম্পর্ক ছিল বেশ হার্দিক। কিন্তু পরবর্তীকালে নানা ইস্যুতে বাহিনীর সঙ্গে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়। যে সিদ্ধান্ত ইউনূসকে চটিয়ে দিয়েছে, তা হল বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহার। এই নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস বা তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে জেনারেল ওয়াকার কোনও আলোচনা করেননি। তিনি বাহিনীর অপর দুই প্রধানের সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের কথা তদারকি সরকার প্রধানকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
সেনাপ্রধান ওয়াকার কিছুদিন আগে ক্যান্টনমেন্টে জরুরী বৈঠক করেন। বৈঠক ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি তাঁর বাহিনীর সদস্যদের বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভূমিকা হবে নিরপেক্ষ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, ভোট যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেটা বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে। সেটা কতটা তারা কার্যকর করতে পারবে, তা নিয়ে কিন্তু সংশয় তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বাহিনীতে ঘটেছে রদবদল। বেশ কয়েকটি শীর্ষপদে এমন লোককে বসানো হয়েছে, যারা আসলে তদারকি সরকার প্রধানের ক্রীড়নক। ভোটের সময় এই সব সামরিক কর্তারা যাতে ইউনূসের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দেশের মধ্যে যে সেনাবাহিনী বিরোধী ঐক্য প্রতীয়মান হচ্ছে, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি কী ভূমিকা নিতে চলেছে, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন। ফলে, একদিকে সেনা ও সেনা-বিরোধী ঐক্য, অপর দিকে বিএনপি, জামাত এবং তাদের মিত্রদল, আর অন্যদিকে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টারা। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে কোনওপক্ষই কিন্তু নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে না।












Discussion about this post