হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে যে খেলা চলছিল সেটা অনেকটা টেস্টম্যাচের সঙ্গে তুলনা করা যেতা পারে। এই ম্যাচের ফলাফল কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলাফল জানা যাবে ১৩ নভেম্বর। এবার শুরু হল টি টোয়েন্টি। খেলা হচ্ছে টিম হাসিনার সঙ্গে টিম ইউনূসের। আসলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে টিম হাসিনার তরফ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঙ্গে টি টোয়েন্টির তুলনা করা যেতেই পারে। কী করেছেন টিম হাসিনা? তাঁর দলের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঠিক যে অভিযোগে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেই একই অভিযোগে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে টিম ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাসিনার তরফে এই মামলা দায়ের করেছেন লন্ডনের ডাউটি চেম্বার্সের স্টিভেন পাওয়েলস কেসি। সেখানে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ এবং দলের নেতা কর্মীদের ওপর যে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করা দরকার। মামলায় এটাও বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থা এবং হাসিনা-পরবর্তী অধ্যায়ে বাংলাদেশে যা হয়েছে, সেটা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। আদালত সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিক। ১৫ নম্বর ধারায় ওই সব অভিযোগ আইসিসির পদক্ষেপের সংস্থান রয়েছে।
মামলায় এও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, আগের মন্ত্রিসভা ও সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতিশোধমূলক বিভিন্ন হিংসার তদন্ত করুক আইসিসির প্রসিকিউটর। স্টিভেন পাওলেসের দ্বারা দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলির মধ্যে হত্যাকাণ্ড, বেআইনি আটক, এবং নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপারাধ সংঘটিত হয়েছে বলে যে সব দাবি উঠেছে সেগুলির যথেষ্ঠ ভিত্তি রয়েছে। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে আইসিসির প্রসিকিউটরের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ওই আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আদালতগুলিতে এসব অপরাধের সুষ্ঠ তদন্ত বা বিচার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই, অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে।
হাসিনার তরফ থেকে ওই মামলায় কী কী দাবি বা অভিযোগ তোলা হয়েছে? বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আওয়ামী লীগের চারশো নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেককে হত্যা করা হয়েছে অত্যন্ত নৃশংসভাবে। অভিযোগের স্বপক্ষে পেশ করা হয়েছে ভিডিও, নথি। ওই সব ভিডিওতে এই সব হত্যার ভয়াবহ দৃশ্য। সেই সঙ্গে রয়েছে বিশদে বিবরণ। কমিউনিকেশনে এও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে – এমন অনুমানের ভিত্তিতে বহু জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অপারেশন ডেভিল হান্ট। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে তদারকি সরকার তার পুলিশকে দিয়ে এই অভিযান চালায়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল একটাই – ১২ দিনের মধ্যে দেশের যে যে প্রান্তে আওয়ামী লীগের সমর্থক বা নেতা রয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে নিকেশ করে দেওয়া। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সামান্য কয়েকদিনের অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ১৮ হাজারজনকে। যাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই আওয়ামী সমর্থক। রয়েছে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক, বিচারক। এমনকী আওয়ামী ঘনিষ্ঠ শিল্পী, সাহিত্যিকদেরও রেয়াত করা হয়নি।












Discussion about this post