মার্কিন মুলুকের প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয়বার জিতেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশ যেমন চিন্তিত, তেমনই এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে, যারা ভয়ে কাঁপছে। এই দ্বিতীয় শ্রেনির দেশগুলির মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। আর চিন্তায় রয়েছে চিন। এই তিন দেশ ভারতের প্রতিবেশী। অপরদিকে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার আগেই খুশিতে ডগমগ ভারত। কারণটা অবশ্যই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতি ঘনিষ্টতা। ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই তিনি যে ক্যাবিনেট বাছাই করেছেন, তাতেও বোঝা যাচ্ছে ২০২৫-এর জানুয়ারি থেকে ভারত এই উপমহাদেশে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। কারণ ট্রাম্প ক্যাবিনেটে এমন অনেকেই আছেন, যারা ঘোষিতভাবেই পাকিস্তান বিরোধী, আবার অনেকে আছেন যারা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যেমন তুলসী গাবার্ড, যিনি মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সর্বোচ্চ পদে বসছেন। তিনি মার্কিন নাগরিক হলেও নিজেকে হিন্দু ভেবে গর্ব করেন। তিনি নরেন্দ্র মোদিকে পছন্দ করেন। ফলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে তিনি ভারতের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন এটা অনস্বীকার্য। এটাই শেষ নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় বারের মেয়াদে ক্যাবিনেটে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন একঝাঁক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আধিকারিক। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা কানেকশনও! আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সরকারী ভাবে দায়িত্ব নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বাংলাদেশের ইউনুস প্রশাসন ইতিমধ্যেই থরহরিকম্প।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাশ্যপ প্যাটেলকে ডিরেক্টর অফ এফবিআই পদে মনোনীত করেছেন ট্রাম্প। একটি গুজরাটি পরিবারে জন্ম তাঁর। মার্কিন মুলুকের আইন শৃঙ্খলা এবং জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত ট্র্যাকরেকর্ড রয়েছে এই গোয়েন্দা কর্তার। তাঁকে এফবিআই-র সর্বোচ্চ পদে বসানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, এফবিআই হল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং অনেকবার তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে গিয়েও ট্রাম্প নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। জো বাইডেন প্রশাসনকে তোপ দেগে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, তিনি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর এভাবে নির্যাতন হতে দিতেন না। কড়া হাতে দমন করতেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রেসিডেন্ট পদে বসেই তিনি বাংলাদেশের তদারকি সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন। এমনকি শেখ হাসিনাকে স্বসম্মানে দেশে ফেরাতেও সাহায্য করতে পারেন। কূটনৈতিক মহলের অভিমত, ট্রাম্পের বাংলাদেশ নীতি পরিচালিত হতে পারে নরেন্দ্র মোদির দ্বারা। যে কারণে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ নিয়ে মোদি কোনও কঠোর অবস্থান নেননি। তিনি অপেক্ষা করছেন ট্রাম্পের মসনদে বসার। অপরদিকে জল মাপছে বাংলাদেশও। মুহাম্মদ ইউনুস এই বিষয়ে মুখ না খুললেও বাংলাদেশের উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে বড় কোনও পরিবর্তন হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে এখন যেমন সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যক সম্পর্ক রয়েছে, তেমনই থাকবে।কিন্তু তা যে আদৌ খুব কঠিন, সেটা মানছেন বাংলাদেশের উপদেষ্টাদের অনেকেই।
প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শীতলতম স্তরে নেমে গিয়েছিল৷ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রায়ই নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতো জো বাইডেন প্রশাসন। তিক্ততা কোনে পর্যায়ে পৌঁছেছিল সেটা বুঝতে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু উক্তি ও সিদ্ধান্তকে স্মরণ করা যায়৷ তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নাকি তাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে চায়৷ একবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েও এমন অভিযোগ তুলেছেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে৷ অপরদিকে, ক্লিনটন, হিলারি, ওবামদের সঙ্গে আমাদের মুহাম্মদ ইউনূসের অনেকদিন ধরেই একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে৷ যার দারুণ প্রভাব পড়েছিল জো বাইডেনের সঙ্গেও। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা গিয়েছিল ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময়ে৷ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রকাশ্যেই সেবার হিলারি ক্লিন্টনকে সমর্থন করেছিলেন। এবং ট্রাম্পের কাছে হিলারির পরাজয়ের পর বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ব্যাথিত। যা ট্রাম্পের স্মরণে রয়েছে। অবধারিতভাবে রিপাবলিকান ট্রাম্পের জয় কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য৷ ধারণা করা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েকটি বছর ভারতের চশমা দিয়েই বাংলাদেশকে দেখবে৷ বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত যে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সম্ভবত তার প্রতিটা ক্ষেত্রেই সায় থাকবে আমেরিকার৷
Discussion about this post