সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছুদিন আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রশংসা করেছিলেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে আপা সম্বোধন করে তাঁর নামে প্রশংসা করেছিলেন। এরমধ্যে আর একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়। এইবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, আওয়ামী লীগ যদি থাকত, শেখ হাসিনা যদি দেশে থাকতেন, তবে দেশে গনতান্ত্রিক অবস্থা বজায় থাকত। হঠাৎ নির্বাচনের মুখে বিএনপির মহাসচিব কেন এমন প্রশংসনীয় মন্তব্য করছেন? তবে কি যেটা বলা হচ্ছিল, যে আওয়ামী লীগ, বিএনপির সমঝোতা হয়ে গিয়েছে, সেটাই সত্যি হচ্ছে? তাই বিএনপির মহাসচিবের মুখে এমন কথা? নাকি ভোট এগিয়ে এলে জেতার জন্য অনেক কিছুই বলতে হয়? আসলে নির্বাচনী খেলা জমে উঠেছে পদ্মাপাড়ে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সমাবেশে যোগদান করতে গিয়েছিলেন। যে সমাবেশে মূলত হিন্দু মহিলাদের দেখা গিয়েছে। সেখানে ভোট বাক্সে ভোট টানতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি ফখরুল। তিনি এটাই বলতে চেয়েছেন, যে আওয়ামী লীগ যেহেতু নেই, তাই আমাদের ভোট দিন। অর্থাৎ শেখ হাসিনার দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে না থেকেও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ থাকলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু থাকত। এখন প্রশ্ন, তাহলে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এত বড় আন্দোলন কেন হল? তিনি কি তবে স্বীকার করে নিলেন, এই আন্দোলন উদ্দেশ্য প্রণোদিত? অনেকে বলছেন, আসলে যে সমাবেশে তিনি গিয়েছিলেন, সেই সমাবেশ ছিল সংখ্যালঘুদের। হিন্দু ধর্মাবল্বীদের। তাদের ভোট টানতেই তাঁর এই বক্তব্য। এমনকি তিনি বলেন, দেশের সবথেকে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই, ফলে বিএনপিকে আপনারা বেছে নিন। পাশাপাশি তিনি শেখ হাসিনাকি ফ্যাসিস্ট বলেননি। এছাড়াও শেখ হাসিনা যে পালিয়ে গিয়েছেন দেশে, সেটাও উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আপনাদের রেখে চলে গিয়েছেন। অর্থাৎ ভোট টানতে আওয়ামী লীগের পক্ষে সুর নরম তাঁর। এছাড়াও তিনি বলেন, আর যারা দেশে রয়েছেন, তাদের ভোট দেবেন না। তারা স্বাধীনতা বিরোধী। অর্থাৎ তিনি জামায়েত ই ইসলামীকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে উল্লেখ করেন। তবে এই প্রথম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগেও বলেন, শেখ হাসিনা আপা আপনাদের রেখে চলে গিয়েছে। আপনাদেরকে দেখে রাখার দায়িত্ব আমার। এছাড়াও তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, আওয়ামী লীগের সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে। সেটা বলে খুব সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, বিএনপি এক নেতা, আওয়ামী লীগের লোকদের আহ্বান দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা আসুন, আপনারা ভোট করুন। আপনাদের সমস্ত মামলা আমরা তুলে নেব। এমপি হলে আমি সমস্ত মামলা তুলে নিতে পারবো। তবে তিনি একজন সাধারণ প্রার্থী। কিন্তু যখন দলের মহাসচিব এটা বলেন, যে আওয়ামী লীগ থাকলে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় থাকত, সেটা অনেক কিছু ইঙ্গিত করে। তাহলে কি আওয়ামী লীগের সঙ্গে বড় সমঝোতা করে ফেলেছে বিএনপি? যদিও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেয়, যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু খানিকটা ভোট বাক্সে ভোট টানতে সুর নরম।












Discussion about this post