ভারতে বসে শেখ হাসিনা একাধিক গণমাধ্যমে বিভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। কখনও সংবাদ সম্মেলনে অডিও বার্তা দিচ্ছেন, আবার কখনও ই-মেল মারফত সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তবে কখনও কখনও দলীয় ফোরামে নানারকম বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সেগুলি বাইরে চলে আসছে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যে গোপন বৈঠক, সেই বৈঠকের খবর অন্তত ৯ দিন পর ফাঁস হল গণমাধ্যমে। এরমধ্যে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনা কোনও দলীয় ফোরামে কোনও কথবাকথন চাউর হয়েছে। সেখানে নিজেকে নানাভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সেখানে তিনি তার সময়ের নানা কর্মকাণ্ড,উন্নয়নের ফিরিস্তি যেমন তুলে ধরেছেন, একইভাবে তিনি এই নির্বাচনকে বিতর্কিত নির্বাচন বলছেন। তিনি বলছেন, এই নির্বাচন প্রশাসন দিয়ে হচ্ছে। এমন নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি এই প্রশ্ন উঠছে, ঢাকায় কি ফিরতে চলেছেন হাসিনা! অবস্থান স্পষ্ট করলেন আওয়ামী নেত্রী।
শেখ হাসিনা সম্প্রতি নিজের দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি বক্তব্য গনমাধ্যমে উঠে এসেছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, কারও চাহিদা তো অপূর্ণ রাখেনি। তার সময়ে বাংলাদেশে বেকারত্ব ছিল না। ভার্চুয়াল সভাতে তিনি এই কথা জানান। সেখানে হাসিনা প্রশ্ন।ছুঁড়ে দেন, আওয়ামী লীগের দোষ কোথায়? তিনি নিজের শাসন আমলের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ১৫ বছর দেখুন আর ১৫ মাস দেখুন। তবেই বোঝা যাবে, তখন কি হয়েছে আর এখন কি হচ্ছে! তিনি বলেন, ২০২৪ জুলাই থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের আক্রমণ, অত্যাচার চলছে। এমনকি পরিবারের সদস্যরা রেহাই পান না। তিনি উল্লেখ করেন, ইউনূস ক্ষমতা দখল করার জন্য একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছেন। মানুষের উপরে নির্যাতন করছেন। সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনের যা অবস্থা, তারা বিচার চাওয়ার কোনও জায়গা নেই। এক একটা বিশ্ব বিদ্যালয়কে আয়না ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে আয়না ঘরের অভিযোগ উঠেছিল শেখ হাসিনার আমলের বিরুদ্ধে। অথচ তিনিই ফের এই বিষয়টি তুলে ইউনূসকে আক্রমণ শানালেন। এমনকি তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত মানুষের মাথার উপর ঋণের বোঝা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা একেবারে ঠিক। কারণ বাংলাদেশের কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। কিন্তু টনক নড়ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। শেখ হাসিনা এদিন প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ অপরাধ করেছে? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন করেছি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাও এখন স্পষ্ট হচ্ছে। যে হারে ইউনূসের আমলে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশে, তাতে শেখ হাসিনা সফল হয়েছিলেন সন্ত্রাসবাদ দমন করতে। শেখ হাসিনার দাবি, ২০২৪ সালে অগাষ্ট মাস পর্যন্ত প্রত্যেকটা মানুষের আয়ের উৎস আমরা করে দিয়েছিলাম। কোনও মানুষ গৃহহীন ছিলেন না। বিনা পয়সায় ওষুধের ব্যবস্থা করেছিলাম। তিনি বলেন, মেয়েদের বৃত্তি দেওয়া, বই দেওয়া চালু করেছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন উন্নতির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু ইউনূস সব ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাস্তাঘাট, হাসপাতালে অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ দেশে দৃশ্যমান যা যা উন্নতিসাধন হয়েছে, সবটাই আমার আমলে। অথচ তারা বলছে, দুর্নীতি হয়েছে। কোথায় দুর্নীতি? হাসিনা দাবি করেন, ১০ হাজার আওয়ামী নেতা কর্মীকে খুন করা হয়েছে। ১ কোটি সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি তিনি বলেন, কারাগারে বন্দি নেতা কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। এমনকি হাসিনা উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে বলা হয়েছিল, আমি প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন করেছি। তাহলে ইউনূস এখন কি করছেন? অর্থাৎ গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকার যে হ্যাঁ ভোটের ক্যাম্পেন চালাচ্ছে, তাতে সমালোচনার মুখে পড়ছে মহিমুদ ইউনূসের সরকার। কারন কোনও সরকার কোনও পক্ষের হয়ে সরাসরি প্রচার চালাতে পারে না। এদিকে শেখ হাসিনা যে ভারতে বসে নেই, সেটাও তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে স্পষ্ট হয়েছে। খবর, আওয়ামী লীগের প্রায় ২৫০-৩০০ নেতা-কর্মীকে সরিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তে নতুন কিছু মুখ নিয়ে আসা হয়েছে। এখন দেখার, শেখ হাসিনা শেষমেশ রিফাইন আওয়ামী লীগ নিয়ে আসতে পারে কিনা!












Discussion about this post