বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন ইস্যুতে। বাংলাদেশের শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে অনড় হয়ে রয়েছে, তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাতে রাজি নয়। আর ঠিক সেই সময়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি কথা চাউর হচ্ছে। তিনি নাকি, দিল্লি থেকে সরে গিয়ে অন্য একটি জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। এবং সেখানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন। আসলে এই খবরটির আদেও কোনও ভিত্তি রয়েছে, নাকি পুরোটাই গুঞ্জন, শুধুমাত্র দেশের আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মীদের সক্রিয় ও মনোবল চাঙ্গা করার জন্য বলা হচ্ছে? উঠে আসছে প্রশ্ন। তবে যদি এই বৈঠক হয়ে থাকে, তবে কি পরিকল্পনা করলেন হাসিনা? তবে কি ভারতের সাহায্য নিয়ে দেশে ফেরার ছক কষে ফেললেন তিনি?
শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওড়িশাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জানা যাচ্ছে, যাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হাসিনা, তাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুর্জামান খান কামাল, শেখ তন্ময় বাহারউদ্দিন, শেখ সেলিম সহ বেশ কয়েকজন। যারা মূলত আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা। কিন্তু আলোচনা হল এই বৈঠকে? যেখানে বলা হচ্ছে, ভারত সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল হাসিনার এই বৈঠকের জন্য। তবে এরপর আওয়ামী লীগ কোন দিকে এগোবে, কি করবে, এই নিয়ে আলোচনা করলেন? নাকি তারা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন? কি নির্দেশনা দিলেন আওয়ামী নেত্রী?
সম্প্রতি শোনা যাচ্ছিল, আওয়ামী লীগ নাকি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি অভিযোগ উঠছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বায়েনকে গ্রেফতার করেছে, সেই সুব্রত বায়েনের সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, এরকম একটি কথা বলা হচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এই বৈঠক। অনেকে বলছেন, এই বৈঠকটি হয়ে থাকলে আওয়ামী লীগ নেতাদের উজ্জীবিত করবে। আর সেই কারণেই বেশি করে এই বৈঠকটি কথা প্রচার করছে আওয়ামী নেতারা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটাও হতে পারে যে আওয়ামীলীগের তৃণমূল স্তরের মেটাকর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্যই এটি মিথ্যে ভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এমনকি হাসিনার দলকে কোনওভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর আগেই ক্রান্তিকাল ছিল আওয়ামী লীগের। তখন অবশ্য শেখ হাসিনা হল ধরে ছিলেন। কিন্তু এখন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে এই দলের কি হয়, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। শেখ পরিবারেই আওয়ামী চাবিকাঠি থাকে নাকি বাইরে চলে যায়, সেই প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনই বাইরে গেলে আওয়ামী লীগ কভাগে বিভক্ত হয়, এমন প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। তবে সে যাই হোক, আসলে শেখ হাসিনা যদি আওয়ামী লীগ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে থাকেন তবে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান সময়ে। বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এর পাশাপাশি এই দলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে সেগুলিকে পাশ কাটিয়ে তারা কিভাবে ফের নিজেদের জায়গা ধরে রাখে বা আদেও পারে কিনা সেটাই সবথেকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।।












Discussion about this post