বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় অন্যতম অভিযুক্তই এবার রাজসাক্ষী হলেন। গত বছরের জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা ছাড়াও অন্য দুই অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছেন সে দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের প্রাক্তন আইডিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এরমধ্যে প্রথম দুজন পলাতক, আর তৃতীয়জন জেলবন্দি। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইডিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হয়। সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, আদালতে ‘দোষ স্বীকার’ করছেন পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি। পাশাপাশি তিনি রাজসাক্ষীও হতে রাজি হয়েছেন। ফলে এই মামলায় শেখ হাসিনার বিপদ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তবে একটি অংশের দাবি, সরকারের চাপেই তিনি রাজসাক্ষী হতে রাজি হয়েছেন। আসলে যেনতেন প্রকারেণ শেখ হাসিনাকে বিপাকে ফেলতে মরিয়া বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।
গত বছরে জুলাইতে বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য ১৪০০ জনকে হত্যার ঘটনায় উস্কানি, প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের প্রাক্তন আইজিপিও এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত। এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ৪ অগস্ট থেকে। এখন চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ কোনও মামলার বিচার শুরু হল বাংলাদেশে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার হয়ে একজন রাষ্ট্রকর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন লড়ছেন। প্রথমদিনই তিনি শেখ হাসিনাকে নির্দোষ প্রমান করতে এমন সব যুক্তিজাল বিস্তার করেছিলেন, যা খণ্ডন করা সরকারপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এই আবহে দেখা গেল, প্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শেখ হাসিনার একটি ১৮ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপ নিয়ে দাবি করে সেটার সত্যতা তাঁরা যাচাই করে দেখে জেনেছেন সেটি হাসিনারই কন্ঠস্বর। ওই অডিও ক্লিপে হাসিনাকে আন্দোলন ঠেকানোর জন্য মারনাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিতে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দাবি করতে শুরু করে বিবিসির ওই প্রতিবেদন এবং ১৮ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপের বাকি অংশ না শোনানো একটা বৃহত্তর ষড়ষন্ত্র। যা হাসিনাকে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে। এবার রাজসাক্ষী সামনে নিয়ে এল বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিটর তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গত বছর জুলাই আগস্টে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী সমস্ত অপরাধের সাক্ষী। তিনি সব কিছু আদালতের সামনে খুলে বলতে চান।
উল্লেথ্য, এই মামলাটি ছাড়াও বাংলাদেশে আরও দু’টি মামলা চলছে আওয়ামী লীগের নেত্রীর বিরুদ্ধে। একটি মামলায় আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনকালের গুম-খুনের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে হাসিনাকে। অন্যটি ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতে ইসলাম নামে সংগঠনের সমাবেশে হত্যকাণ্ডের মামলা। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন হল, শেখ হাসিনা একদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অডিও বার্তায় ঘোষণা করেছিলেন, তাঁকে নোটিশ দেওয়া হলে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে রাজি আছেন। যদিও তিনি এর আগে ওই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসন হলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছেন, শেখ হাসিনাকে ফাঁসানোর সব ধরণের চক্রান্ত করে চলেছেন মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দোসররা। এর জন্য যা যা করার তাই করছেন তাঁরা। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনই একমাত্র গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি। ফলে কারাগারে তাঁর ওপর অত্যাচার করে বা ভয় দেখিয়ে যদি রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু সাধারণত, বিচার প্রক্রিয়া হয় দালিলিক ও ফরেন্সিক প্রমানের দ্বারা। আর সেটা সঠিক তদন্তের পরই পাওয়া যায়। কিন্তু হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে করা হচ্ছে, তাতে তদন্ত কথন হচ্ছে সেটা নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। এখন দেখার, রাজসাক্ষী ইস্যুতে শেখ হাসিনা কি প্রতিক্রিয়া দেন।












Discussion about this post