আরও একটি জরিপ। বিবিসির পর ভয়েস অব আমেরিকার। এই জরিপ আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে। কী আছে সেই জরিপে? এই প্রতিবেদনে থাকছে সেই জরিপের রিপোর্ট।
হাসিনা যাতে কোনওভাবেই বাংলাদেশের মসনদে আসীন হতে না পারেন, তার জন্য যমুনাভবন থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে আবার আন্তর্জাতিক মহল থেকেও সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ভারত তো নানাভাবে চাপ তৈরি করছে। ভারত-সহ আন্তর্জাতিক মহলের একটাই দাবি, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। সব রাজনৈতিক দল যাতে অংশ নিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে বর্তমান সরকারকে। এদিকে, আবার সরকারকে পাল্টা চাপ দিচ্ছে জামাত এবং বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন। সরকার সব দিক থেকে ফ্যাসাদে পড়েছে। না পারছে ফেলতে, না পারছে গিলতে। এদিকে আবার জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে সরকারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রকাশ পেল ভয়েস অব আমেরিকার (ভি.এ) একটি রিপোর্ট।
সমীক্ষা করা হয় গত নভেম্বরে। অর্থাৎ গণঅভ্যুত্থানের তিন মাসের মাথায়। সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হাসিনাকেই কুর্সিতে দেখতে চাইছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে তরুণ প্রজন্ম রয়েছে। বাংলাদেশের একহাজার মানুষের ওপর ভয়েস অব আমেরিকা র্যা নডাম পরীক্ষা করে। ভি.এ-য়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের ৫৭ শতাংশ মানুষ এখনও হাসিনার পক্ষে। এর মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮-৩৪, তাদের মধ্যে ৫৩.৯ শতাংশ চাইছে আবার আপা ক্ষমতায় ফিরুক। ৩৫ বা তার থেকে যাদের বয়স বেশি, তাদের মধ্যে ৬০. ৩ % মানুষের একটাই দাবি। বাংলাদেশের ৫২.২ % মহিলাও হাসিনার দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ৬১.৮ % পুরুষ চাইছে হাসিনার দল আবার মসনদে আসীন হোক। সার্ভে রিপোর্ট অনুসারে, গ্রামের ৫৭.১ % এবং শহরের ৫৬.৭ % মানুষ চাইছে ইউনূস যত দ্রুত বিদায় নেয়, ততই বাংলাদেশের পক্ষে মঙ্গল। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতায় ব্যাটন হাসিনার দলের হাতে উঠতে পারে।
দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা নিয়েও ভয়েস অব আমেরিকা সমীক্ষা চালিয়েছে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৩৫.৩ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দিয়েছে। সুতরাং, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক যে এর বিরুদ্ধে সেটা পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাদের বয়স ১৮-৩৪ বছরের মধ্যে তাদের ৩৯.৯ শতাংশ এই নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে। ৩৫ বছর বা তার উর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের মধ্যে ৩০.৮ % তদারকি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছে। এদিকে আবার ন তুন করে নাহিদ ইসলাম দাবি তুলেছে এবার দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়ার দরকার।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি বলছে, সরকার বিরোধী দলের ওপর একাংশের সহানুভূতি থাকে। আর দলটা যেহেতু আওয়ামী লীগ, তাই সহানুভূতির পাল্লা অনেক বেশি। প্রশ্ন হচ্ছে, হাসিনা কি দেশে ফিরতে পারবেন? এই নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এক পক্ষ বলছে, হাসিনা বা ওই দলের নেতা যারা দেশের বাইরে আত্মগোপন করে রয়েছে, তাঁদের ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। আর দ্বিতীয় পক্ষ ঠিক উল্টো মত দিচ্ছে। তবে দুই পক্ষ একটি বিষয়ে একমত যে তদারকি সরকারের থেকে হাসিনা বা তাঁর দল নতুন করে আর কিছু পাওয়ার নেই।












Discussion about this post