একশো জনেরও বেশি প্রতিনিধি নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে গিয়েছেন। যদিও তার মার্কিনমুলুকে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হল জাতিসংঘের সাধারণ সভার ৮০ তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করা। ফলে প্রশ্ন উঠছে সরকারি টাকা অপচয় করে শতাধিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কেন তিনি নিউইয়র্কে গেলেন? মোঃ ইউনুছ ছাড়া বাকিদের কাজ কি শুধুই পর্যটন? জানা যাচ্ছে ইউনূসের এই মার্কিন সফরে বাংলাদেশ সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। জানিয়ে বিতর্ক কম হচ্ছে না বাংলাদেশে। আরো একটি বিতর্ক দানা বেঁধেছে, সেটা হল মার্কিন প্রবাসী দুই সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন ও কনক সারোয়ারকে ব্রাত্য করে দিয়েছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এই দুজন নিউইয়র্কে অবস্থান করলেও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও সাক্ষাৎ বা বৈঠক হচ্ছে না। অথচ এই দুই সাংবাদিক গণঅভ্যুত্থানের কয়েক বছর আগে থেকেই নিউইয়র্কে বসে আন্দোলনকারীদের দিক-নির্দেশন করে গিয়েছেন, সময় অসময়ে নানান পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের হোতা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুরোধা বলা হয় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে। নিউইয়র্ক প্রবাসী আরেক সাংবাদিক কনক সারোয়ার এবং প্যারিস প্রবাসী পিনাকী ভট্টাচার্যও একই কাজ করে গিয়েছেন। এই তিনজন ছাত্র নেতাদের মধ্যে যথেষ্টই জনপ্রিয় এবং সম্মানীয়। অথচ গণঅভ্যুত্থানের এক বছর হয়ে যাবার পর দেখা যাচ্ছে ইলিয়াস কনকদের দূরে ঠেলে দিয়েছে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যা নিয়ে যথেষ্টই চর্চা চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।
আপনাদের নিশ্চই মনে আছে মাস কয়েক আগেই নানান চাপে পড়ে তীব্র অভিমান নিয়ে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ঠিক সেই সময় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তার ব্যাক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, দেশের জন্য যদি প্রয়োজন হয়, তবে প্রফেসর ইউনূসের পাশে পাশে দাঁড়ানোর জন্য পিনাকী-ইলিয়াস-কনক সারোয়ার একসাথে ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করবে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যখনই ইউনূসের সরকার বিপদের মুখে পড়েছে তখনই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আবার উল্টোটাও আছে। ইলিয়াস, কনকরা কখনও কখনও ইউনূস সরকারের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করতে ছাড়েননি। মনে করা হচ্ছে, সেই কারণেই ইলিয়াস, কনক ও পিনাকীদের ওপর রুষ্ট মুহাম্মদ ইউনূস। সেই কারণেই একশো জনের প্রতিনিধি নিয়ে নিউইয়র্ক গেলেও ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন ইলিয়াসরা।
তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছেন ইউনূস নিজে ইলিয়াসদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার অন্যতম কারণ হল আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের নির্বাচন। এখনই বাংলাদেশে নির্বাচন হোক এটা চাইছেন না ইলিয়াস পিনাকীরা। তাঁরা ইউনূসের নির্বাচন ঘোষণা নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। এটাও ইউনূসের গোঁসার কারণ হতে পারে। তবে ইউনূস নিজে ইলিয়াসদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলেও এনসিপি নেতা আখতার-তাসনিমরা যোগাযোগ করতেই পারেন তাঁদের সঙ্গে। কিন্তু যারা ভেবেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একটা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসতে পারেন ইলিয়াস কনকদের সঙ্গে, সেটা যে হচ্ছে না এটা বলাই বাহুল্য। যা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে বাংলাদেশ।












Discussion about this post