বাংলাদেশে অবিলম্বে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় ভারত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এমনই মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই কথা এর আগে বহুবার বলেছে। কিন্তু একই দিনে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বড় বার্তা এল। যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বৃহস্পতিবারই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তারা যেন নিজেদের ব্যর্থতার দায় ভারতের উপর না চাপায়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলি সেখানকার বর্তমান সরকারকেই সমাধান করতে হবে। অজুহাত তৈরি করে সমস্যার সমাধান করা যায় না।
রাশিয়ার সরকারি গণ মাধ্যম আরটি মিডিয়া এক প্রতিবেদনে ভারতের পক্ষ নিয়েই মন্তব্য করেছে। ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে অন্তরবর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছিল বাংলাদেশ সরকার। প্রধান উপদেষ্টার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এহেন দাবি করা হয়েছিল। সেই পোস্ট শেয়ার করে রাশিয়ার সরকারি গণমাধ্যম লিখছে, ইউনূস ভারতীয় গণমাধ্যমকে “ভুল তথ্য ছড়ানোর” জন্য অভিযুক্ত করলেও , তার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদ, সেইসাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদ সম্পর্কে জল্পনা প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশী গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বিলম্বের কারণে অসন্তোষ রয়েছে। ইউনূস বারবার বলেছেন যে ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কারণ দেশে প্রথমে সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি রাখাইন মানবিক করিডোর নিয়েও যে সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে সেটাও বলা হয়েছে সেই প্রতিবেদনে। আর মুহাম্মদ ইউনূসের দাবি নস্যাৎ করতে রাশিয়ার মিডিয়া হাতিয়ার করেছে বাংলাদেশের ডেইলি ষ্টার ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলি। ফলে ইউনূস প্রশাসন যে মিথ্যাচার করছে সেটা স্পষ্ট করে দিল রাশিয়া।
কূটনৈতিক মহলের মতে, আরটি মিডিয়া রাশিয়ার সরকারি গণমাধ্যম। ফলে এখানকার প্রতিবেদনে ক্রেমলিনের সায় রয়েছে। আর ভারত যেদিন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলল, সেদিনই রাশিয়া ইউনূসের মুখোশ খুলে দিল। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রশাসন কথায় কথায় ভারত বিরোধিতা করেন, কিন্তু এই বিষয়ে এতদিন আন্তর্জাতিক মহল থেকে কেউ মুখ খোলেনি। কিন্তু এবার রাশিয়া খোলাখুলি বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের সাথ দিল। সেই সঙ্গে মুখোশ খুলল ইউনূসের মিথ্যাচারের। ফলে বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দীর্ঘ সময় ধরেই ভারত ও রাশিয়া খুব ভালো বন্ধু। একে অপরকে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে। এবার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে আরাকান আর্মিকে সাহায্য করার জন্য যে মানবিক করিডোর দিতে চাইছে, সেটা আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি করতে দেওয়ার আছিলা মাত্র। এটা যেমন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলের বুঝতেও সমস্যা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে নেয়, তাহলে তা যেমন ভারতের জন্য মাথাব্যাথা হবে, তেমনই মিয়ানমার, চিন ও রাশিয়ার কাছেও চিন্তার কারণ হবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এতদিন বাংলাদেশ ইস্যুতে কেউ সেভাবে মন্তব্য না করলেও, এবার সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে বড় বার্তা দিয়ে রাশিয়া বুঝিয়ে দিল এবার অন্য খেলা শুরু হবে।












Discussion about this post