বদলার নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’! গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার ১৫ দিনের মাথায় পাকিস্তানের বুঁকে এয়ার স্ট্রাইক ভারতীয় বায়ুসেনার। পাক অধিকৃত কাশ্মীরসহ পাকিস্তানের জঙ্গিদের গোপন ডেড়া গুলিকে চিহ্নিত করে, গুঁড়িয়ে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হল। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাক জঙ্গির ৯টি ঘাঁটি ধ্বংস করলো ভারতীয় বায়ুসেনা। ভারতের তিনবাহিনীর তৎপরতায় পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিবার পেল স্বজন হারানোর ন্যায় বিচার। কোন সাধারণ নাগরিক বা সেনার ওপর আঘাত না হেনে শুধুমাত্র জঙ্গিঘাঁটি গুলিকে ধ্বংস করার এই অপারেশন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকট এয়ার স্ট্রাইকের পর ‘অপারেশন সিঁদুর’। তাহলে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিদেশ মন্ত্রী থেকে শুরু করে তিন সেনাবাহিনীর প্রধান প্রত্যেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে। এবার সুপরিকল্পিতভাবে ভারতীয় সেনার তরফে জঙ্গি ঘাঁটি গুলিকে নিশানা করে এয়ার স্ট্রাইক চালালো ভারত। মঙ্গল মধ্যরাতে পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, জঙ্গিদের ৯টি ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এই অভিযানের মাধ্যমে । সূত্র বলছে,গত তিন দশক ধরে ওই ঘাঁটিগুলোতেই সন্ত্রাসের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছিল। ওই ঘাঁটিগুলিকে ব্যবহার করেই জঙ্গি নিয়োগ, ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এমনকি ওগুলি ছিল ভারতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের লঞ্চপ্যাড, যা একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র।
বাহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদ, মুরাক্কায় লস্কর-ই-তৈবা ও হিজবুল মুজাহিদিনর সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
উল্লেখ্য, গোটা অপারেশনের নজরদারিতে ছিলেন স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাতেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে হামলার বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে জানানো হয়, পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে স্ট্রাইককরা হয়েছে।কর্মকর্তাদের মতে, বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে এবং কোটলিতে গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যে সব জায়গায় বসে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হানার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই আঘাত করা হল।
দেশ জুড়ে মক ড্রিলের নির্দেশ দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে অপারেশন সিঁদুর এর পরই এক্স হ্যান্ডলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং লিখেছেন, ‘ভারত মাতা কী জয়!’মধ্যরাতের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে আক্রমণের কথা ঘোষণা করে। জানা গিয়েছে যে পুরো অভিযানটি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল।
অন্যদিকে রাতেই এই হামলার কথা স্বীকার করেছে পাকিস্তান। পাক সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলাকে বিভিন্নভাবে তোপ দাগা হয়েছে। পাকিস্তান তার মাটিতে সন্ত্রাসবাদী শিবির স্থাপনের কথা অস্বীকার করেছে তা বলাই বাহুল্য। সেই সঙ্গে, ইসলামাবাদ দাবি করেছে যে ভারত কোনও প্রমাণ ছাড়াই অসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এর তরফে ভারতের এই অভিযানের পাল্টা পদক্ষেপ এর হুশিয়ারিও এসেছে। তবে বিশ্বের দরবারে সন্ত্রাসবাদের আখড়া পাকিস্তান কার্যত কোনঠাসা, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাল্টা প্রত্যাঘাত জল্পনা সৃষ্টি করছে বিভিন্ন মহলে।












Discussion about this post