পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ভারতের প্রত্যাঘাত অপারেশন সিঁদুর। মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ৯টি স্থানে হামলা চালাল ভারতীয় সেনা। বুধবার সকালে ট্যুইট করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লিখলেন, ‘জয় হিন্দ, জয় ইন্ডিয়া’। পরে বেলার দিকে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ডাকা জরুরি বৈঠকেও যোগ দিলেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। অথচ তাঁর দলের এক সাংসদ সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিলেন, অপারেশন সিঁদুরের ভিডিও বিজেপির মিথ্যা প্রচার।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের এই কড়া জবাবে যখন গোটা দেশ জুড়ে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। ঠিক তখনই বিজেপির বিরুদ্ধে ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, অপারেশন সিঁদুরের নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়াচ্ছে বিজেপি। এই ধরণের ভিডিও থেকে সতর্ক থাকতে অনুরোধও করেছিলেন তিনি। তাঁর ফেসবুকে এই বার্তা ফুটে উঠতেই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি কয়েকটি স্ক্রিণশট যুক্ত করে বিতর্কে ইতি টানার চেষ্টা করেন। তিনি পরে লেখেন, ‘ভারতীয় সেনাকে অপারেশন সিঁদুর এর জন্য সাধুবাদ জানাই। জয় হিন্দ। কিন্তু বীর সেনাদের কাজকে সামনে রেখে বিজেপি মিডিয়া সেল ভুয়ো ভিডিও পোস্ট করছে যেটা নিন্দনীয়। ভুয়ো ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে সেটা ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ দেখাচ্ছে। আসলে এই ভিডিওটা ইস্রায়েল দেশের গাজাকে আক্রমণ করার ভিডিও। সাবধান – এই স্পর্ষ্কাতর সময়ে কোনো বিজেপি দ্বারা প্রচার করা খবর বিশ্বাস করবেন না। এরা সকলে ভুয়ো খবর ছড়াতে এক্সপার্ট। বিজেপি নেতারা তাঁর পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে মহুয়ার এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। একদিকে যখন মহুয়া মৈত্র ভারতের অপারেশন সিঁদুরের ছিদ্র খুঁজতে ব্যস্ত, তখন তাঁরই দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মাত্র চারটি শব্দে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন কথায় কথায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যান, তখন এদিন অপারেশন সিঁদুর বা সেনাবাহিনীর এই প্রত্যাঘাতের কোনও উল্লেথ না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন ‘জয় হিন্দ, জয় ইন্ডিয়া’। প্রসঙ্গত, সর্বদল বৈঠকে সমস্ত দলের মতোই তৃণমূল কংগ্রেসও জানিয়েছিল, প্রত্যাঘাত সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের পাশে থাকবে তাঁরা। কিন্তু পরবর্তী সময় তৃণমূলের নানা নেতা-নেত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল পহেলগাঁও হামলায় কেন্দ্রের গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা। এবার ভারত যখন পাল্টা প্রত্যাঘাত করল, তখন তৃণমূল নেত্রী মাত্র চার শব্দে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিলেন। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ যদিও কিছুটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর অভিব্যাক্তি নিয়ে। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আমরা বারবার বলেছি এই ব্যাপারে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। ভারত সরকার অপারেশন সিঁদুরের মধ্যে দিয়ে তা নিয়েছে। তবে কৌশলী ভাষায় তিনি বা নেত্রী যে মোদি সরকারকে কোনও কৃতিত্ব দিলেন না সেটাও বুঝিয়ে দিলেন কুণাল।
অপরদিকে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতের সীমান্তবর্তী দশটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি এবং মুখ্য সচিবদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। সূত্রের খবর, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান সেনা ক্রমাগত গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। সেই আবহে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে আনার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাকিস্তান হামলা চালাতে পারে ভারতের পশ্চিম সীমান্তে, তাহলে কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বৈঠকে ডাকা হল? এই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। সূত্রের খবর, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের চিকেন নেক তথা শিলিগুড়ি করিডোরে আঘাত হানতে পারে। সেই কারণেও পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম রাজ্যকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখতে বলা হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে।












Discussion about this post