ভারতীয় অপারেশনের লক্ষ্য বাংলাদেশ! চলতি মাসের শুরুতেই ভারত-পাক সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভারত সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুরু করেছে অপারেশন সিঁদুর। কিন্তু এবার বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ভারতকে নতুন কোন অপারেশন শুরু করতে চলেছে? সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলে, এই নয়া অপারেশনের বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে।
গত ২২ শে এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগাওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরই, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত শুরু করে। আর ভারতের এই অপারেশন সিঁদুরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা, এবং শেষমেষ ভারতীয় সেনার তৎপরতায় সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল ভারতের। অন্যদিকে বর্তমানে পাকিস্তানের পরম মিত্র বাংলাদেশ সেখানকার পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর। কারণ পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদ যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপরূপ প্রভাব বিস্তার করে সেই সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারতের অপারেশন সিঁদুর। আর বাংলাদেশে একইভাবে দেখা যাচ্ছে এখন দিকে দিকে সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা গড়ে উঠছে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে একাধিক জঙ্গি, এবং এই সন্ত্রাসীদের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উপর। প্রশাসনের উদ্যোগে জঙ্গিদের কার্যকলাপ ও বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশে। আর সন্ত্রাসবাদী নিকেশ এ ভারত প্রতিনিয়ত নিশানা করছে ইউনূসের বাংলাদেশকে, তবে কি, এবার ভারত বাংলাদেশের জন্যও অপারেশন তৈরি করছে।
তবে বর্তমানে বাংলাদেশে ঘটনার ঘনঘটা। এই পরিস্থিতিতে নজর রাখতেই হচ্ছে বৈদেশিক ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের অতি প্রাচীন লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটি। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা নির্মিত এই বিমান ঘাঁটি টি ব্যবহৃত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে বিমান ঘাঁটিতে পরিত্যক্ত ছিল কিন্তু বাংলাদেশের পূর্বতর সরকার অর্থাৎ আওয়ামী লীগ এই বিমান ঘটিটিতে পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা শুরু করেছিল। কিন্তু এর পরে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামী লীগ নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর তিনি দেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার লালমনিরহাটে এই প্রকল্পটির মাধ্যমে সেখানে শেখ মুজিবর রহমান এভিয়েশন এন্ড আরো স্পেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বিমান ঘাটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের এই পরিকল্পনা মাপের যদি প্রকল্পটি সম্পন্ন হতো তবে হয়তো ভারত সরকারের কোন মাথা ব্যাথার কারনই থাকতো না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, যখন ইউনুস সরকার এটি করতে চাইছে তখন শুধু ইউনুস সরকারেরই নয় চীনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গিয়েছে পাশাপাশি পাকিস্তানও রয়েছে অর্থাৎ চীন ও পাকিস্তানের সহায়তায় মোঃ ইউনুস চাইছেন লালমনিরহাটে একটি বিমান ঘাঁটি তৈরি করতে। আর এটাই এখন ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। এই উদ্বেগ থেকেই ভারত শিলিগুড়ি করিডোরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে, সেনাবাহিনীর মহড়া শুরু হয়েছে এই করিডোরে। অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডোরে সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি রাশিয়ান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রাখা হচ্ছে তারপরেও ভারতের তরফ থেকে করা হুশিয়ারি লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু করা হলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার।
বাংলাদেশ লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু করলে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ হিসেবে ভারত ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহরের তিন দশক পুরোনো বিমানঘাঁটি সচল করবে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য,লালমনিরহাট পুনঃসক্রিয় করার ফলে বেইজিং আক্ষরিক অর্থেই নয়া দিল্লির দোরগোড়ায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে বলে আশঙ্কার বার্তা শোনা যাচ্ছে।
আর যদি চীন লালমনিরহাটের সংস্কারের জন্য অর্থায়ন করে, তাহলে আশা করা যায় যে চুক্তির অংশ হিসেবে চীনাদের সামরিক সম্পদ যুদ্ধবিমান, রাডার, নজরদারি সরঞ্জাম সেখানে মোতায়েন থাকবে।
এই উদ্বেগের কারণে ভারত ত্রিপুরার উত্তরাঞ্চলের কৈলাশহর অঞ্চলে তিন দশকের পুরনো একটি বেসামরিক বিমানবন্দরের সংস্কার দ্রুত শুরু করে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।












Discussion about this post