বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অফিসার্স এন্ড অ্যাড্রেসে যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তাতে প্রধান উপদেষ্টা যে কার্যত ভয় পেয়েছিলেন, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ তারপরই প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। যদিও পরে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন বলে জানা যায়। এদিকে প্রধান উপদেষ্টা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। নির্বাচনের রোডম্যাপ দেন। মোহম্মদ ইউনূস আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন চাইছেন। যেখানে সেনাপ্রধান এবং বিএনপি চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে। এমনকি বিএনপি যেভাবে নির্বাচন নিয়ে হুঙ্কার, হুশিয়ারি দিচ্ছেন, তাতে মনে করা হয়েছিল তড়িঘড়ি হয়তো সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবেন। কিন্তু কোথায় কি! জাপানের টোকিওতে বসে প্রধান উপদেষ্টা কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল বিএনপিকে। সেখানকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রেসিডেন্ট তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন। এবং সেই পুরোনো কথা বললেন। আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হবেই।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্যাসিফিক এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং তার দলবল। সেখানে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগেরপ্রেসিডেন্ট তারো আসো। বুধবার টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর। জাপানের টোকিও থেকে ফের বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বলতে চাই, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। আপনাদের বলছি, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। নির্বাচন নিয়ে চলছে টালবাহানা। অল্প সংস্কার আগে নাকি বেশি সংস্কার, সেই নিয়ে চলছে টালবাহানা। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলছেন, এই সরকার আওয়ামী লীগের থেকেও বেশি ক্ষতিকর। সালাউদ্দিন আহমেদ বলছেন, আমরা নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। আমরা তার পদত্যাগ চাইনি। কিন্তু তিনি পদত্যাগের নাটক করেছেন। আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছি। অর্থাৎ বাংলাদেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ক্রমাগত হুংকার দিয়েই চলেছে। কিন্তু তদারকি সরকারের কোনও বদল নেই।
বাংলাদেশের তদারকি সরকার যে বিপদে ছিল সেটা পরিষ্কার। সেই কারণেই পদত্যাগের নাটক করা হয়েছিল। সেই সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচন ইস্যুতে বৈঠক হয়েছিল বিএনপিরসঙ্গেও। বৈঠক শেষে বিএনপির নেতারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাদের সমস্ত দাবির কথা তুলে ধরে। অনেকে বলছে, বিএনপির শেষ সময় চাইলেই সরকারকে চাপ দিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করার দাবি রাখতেই পারতো। কিন্তু সেটা তারা না করে বরং নিজের পায়েই নিজে কুরুল মেরেছে। প্রধান উপদেষ্টা যদি পদত্যাগের নাটক করে, তবে বিএনপিও কিছুদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে নাটক করছে। এই কথা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ সেনাপ্রধানের চাপ, রাজনৈতিক দলগুলির চাপের পরও বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন মোহম্মদ ইউনূস।
তবে 2026 এর জুন মাসের ফ্যাক্টর কেন তুলে ধরছে তদারকি সরকার? এই প্রশ্নটা উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে। অনেকে বলছেন, নির্বাচন এই মুহূর্তে না হলে জুনে হবে না। কারণ সেই সময় প্রত্যেক বছরই প্রায় বাংলাদেশের অনেকাংশ বন্যায় ডুবে থাকে। কাজেই জুন মাসে নির্বাচনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেই বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে সেনাবাহিনীও সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপোষ নয়। কিন্তু তারপরও টনক নড়েনি সরকারের। দেশে যেভাবে জঙ্গিবাদ মৌলবাদের আশ্ফালন হচ্ছে, তাতেও কোনও হেলদোল নেই ইউনুস সরকারের। তার উপর নির্বাচন না হলে, স্থায়ী সরকার গঠিত না হলে, দেশ দেশ আরো বিশৃংখল জায়গায় পৌঁছবে। এখন শেষমেষ বাংলাদেশের পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।












Discussion about this post