এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অস্বাভাবিক পথে হাঁটতে শুরু করেছে। গোটা জাতিকে অন্ধকারে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে ইউনুস সরকারের। কেন বলা হচ্ছে এই কথা? আসলে অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের তরফে একটা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেটি হল, সচিবালয়ে দর্শনার্থী এবং সাংবাদিকরা সপ্তাহে দুদিন প্রবেশ করতে পারবে না। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। তবেই দুটো দিনকেই কেন বেছে নেওয়া হল? এর পিছনে নিশ্চয়ই বড়সড়ো কোনো কারণ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাধারণত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক থাকে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা আলোচনা ফলে তা জানানো হয়। তবে কি আলোচনার প্রসঙ্গ এবং বৈঠক এড়ানোর জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা? তবে নির্দিষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না, আসলে সরকার চাইছেটা কি! তবে হঠকারী সিদ্ধান্তে সরকার সহজে টিকে থাকতে পারবে না, সেরকম উদাহরণ রয়েছে ভুরি ভুরি। এই মুহূর্তে সচিবালয়ের ভিতর সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করছে। তদারকি সরকারের তরফে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করেই সেই প্রতিবাদ বা আন্দোলন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে বাইরেও। এদিকে মঙ্গলবারে তাদের অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও সচিবালয়ের ভিতর কি কি ঘটলো, কি কি দাবি সরকারি কর্মচারীদের, সেগুলি কি আদেও ধামাচাপা দেওয়া গেল? দিনের শেষে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ জেনে গেল আদতে সরকারি কর্মচারীদের দাবিদাওয়া গুলি। শুধু তাই নয়, অবস্থানরত সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে সরাসরি লাইভ করেছিলেন। অর্থাৎ যে কোনও ঘটনার সম্প্রচার থেকে বিরত রাখতে পারবে না কেউই। এর আগেও সরকারের তরফ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল সাংবাদিকদের। এর আগে ২৫শে ডিসেম্বর সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে একইভাবে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন? জনসমক্ষে এই ঘটনাগুলি আনতে কি ভয় পাচ্ছে তাদেরও কি সরকার? মনে করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সমস্তটা জেনে গেলে, অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনী গড়িমসি করে যতদিন ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন, সেটাও হয়তো পারবেন না! কিন্তু এমনিতেই দেশের জনগণ সবটা জানে এবং বোঝে। এর আগে আওয়ামী লীগও বাংলাদেশ ব্যাংকে পূর্ব অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু লাভের লাভ হয়নি। বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি। এই ঘটনাটি আওয়ামী লীগের একদম শেষ সময়ে ঘটেছিল। এখানেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো সরকারের পতনের সময় এগিয়ে এলে, এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে সরকার। এটাই বলছে ইতিহাস।
এটা একদম সঠিক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সাংবাদিকরা বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত না। সরকারের বিরুদ্ধে কোনও খবর সম্প্রচার করা হলে কণ্ঠরোধ করা হতো সংবাদ মাধ্যমের। তখন অনেকেই বলছিলেন, অন্তত এই সরকারের আমলে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। কিন্তু আদতে কি সেটা? যেকোনও মুহূর্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে মোহম্মদ ইউনূসের সরকার। তবে সাংবাদিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেমন কোনও লাভের লাভ হবে না বলেই জানাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, শেষমেশ কি হয়।












Discussion about this post