বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এলো। যাকে হাসিনা সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ করেছিলেন, সেই ওয়াকার উজ জামান তাঁকে খতম করার ছক কষেছিল। ভারতের একটি গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে এই হাড়হিম করা ষড়যন্ত্র ফাঁস করেছে। হাসিনা ভারতে চলে আসেন গত ৫ অগাস্ট। আর ঠিক তার আগের দিন হাসিনার বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা আসাদুজ্জামা খান কামালের প্রকাশিতব্য একটি বইয়ের উল্লেখ করতে হয়। বইয়ের শিরোনাম ‘ইনশআল্লা বাংলাদেশ : দ্য স্টোরি অব অ্যান আনফিনিশড রেভলিউশন ’। সেই বইয়ের বেশ কিছুটা অংশ ফাঁস হয়ে গিয়েছে। বইয়ের রয়েছে আসাদুজ্জামান খান কামালের একটি সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘হাসিনার আত্মীয় ওয়াকার আদতে সিআইএ-য়ের চর। তিনি হাসিনার পিঠে ছুরি মেরেছিলেন।’
বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিআইএ দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করেছিল হাসিনাকে ক্ষমতাতচ্যূত করার। আমরা জানতাম না যে সিআইএ-র পকেটে রয়েছেন ওয়াকার। আমাদের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বাহিনী , বাংলাদেশ গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল ও বাংলাদেশের প্রিন্সিপ্যাল সিভিলিয়ান ইন্টেলিজ্যান্স এজেন্সি, জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ কেউই প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেননি যে ওয়াকার তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন। হয়তো ওদের শীর্ষকর্তারাও এই ষড়যন্ত্রে সামিল ছিলেন। ’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মোদি, শি, জিনপিং, হাসিনার তো শক্তিধর নেতা থাকলে সিআইয়ে কোনওভাবেই শয়তানি করতে পারবে না। একমাত্র দূর্বল সরকার হলেই সেটা সম্ভব হব। দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, তিনি বেঁচে থাকতে ওই দ্বীপ আমেরিকার হাতে তুলে দেবে না। আর তার বদলা হিসেবে তারা হাসিনাকে ক্ষতম করার পরিকল্পনা নেয়।
ভারতেরর ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে একটি তারিখের উল্লেখ করা হয়েছে। দিনটি হল ৪ অগাস্ট। প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ওই দিন হাসি বৈঠক করেন সেনাপ্রধান ওয়াকার, তৎকালীন নৌপ্রধান। ইতিমধ্যে ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু করেছে। হাসিনাকে পরামর্শ দেওয়া হয় আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলার। হাসিনা তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে অস্বীকার করেন। বলেন, এটা যদি ছাত্রজনতা স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন হলে তিনি অবশ্যই কথা বলতেন। কিন্তু এই আন্দোলনের পিছনে মদত রয়েছে ডিপ স্টেটের। ডিপ স্টেটের কু মতলব আছে। হাসিনা সেনাপ্রধানকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দেন। সেনাপ্রধান বলেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সব চেষ্টা চলছে। আপনাকে উদ্বিগ্ন হতে হবে না।
ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৫ অগাস্ট গোটা চিত্র বদলে যায়। সেনাপ্রধান আবার শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। বলেন, ছাত্রনেতারা ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। আপনি ওদের সঙ্গে একবার দেখা করুন। কথা বলুন। দ্বিতীয় দফাতেও হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনও অবস্থাতেই ওই আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করবেন না। এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে কেন, হাসিনা দেখা করতে অস্বীকার করেন।
এটা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। হাসিনাকে শুধু ক্ষমতা থেকে উৎখাত করাই নয়। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার ছক পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আর হাসিনাকে বাঁচালে ভারতের জেমস বন্ড অজিত ডোভাল। সূত্রের মতে, ডোভালের পালটা ছকে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত থেকে ক্ষমতা গিয়েছে ঠিক। কিন্তু প্রাণ বেঁচে গিয়েছেন।











Discussion about this post