প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক প্রথম থেকেই ভালো ছিল। চড়া হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সেই সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। চড়া শুল্কের পালটা হিসেবে সাউথব্লক সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তেল কিনবে রাশিয়ার থেকে। এই সিদ্ধান্ত চটিয়ে দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গত ১ সেপ্টেম্বর ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর ঠিক দু মাস বাদে দিল্লি এবং ওয়াশিটং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাখাতে ১০ বছরের জন্য একটি চুক্তি সই করে। বলা হচ্ছে এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়া সহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলতগত সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এই চুক্তি এমন অবস্থায় সাক্ষরিত হল যখন হোয়াইট হাউজের সঙ্গে ১০ নম্বর লোককল্যাণ মার্গের সম্পর্ক নরম-গরম।
যদিও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি সেই উত্তাপকে অনেকটাই প্রশমিত করে। মূলত উত্তাপ প্রশমনের জন্য সাউথ ব্লক এবং ওয়াশিংটন ডিসি উভয়ে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকে আবার এটাও বলছেন, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পরবর্তী মার্কিন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এস পল কাপুর। তিনি ভারতের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই এই চুক্তি সই হয়েছে। বলা হচ্ছে, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের মধ্যে যে একটা টানাপোড়েন চলছিল, পল কাপুর সেই টানাপোড়েনকে অনেকটাই প্রশমিত করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের প্রভাব আমেরিকার মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশেও। আমেরিকা ভীষণভাবে চাইছে দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের প্রভাব হ্রাস করতে। বেজিংয়ের সঙ্গে কাজ করার কী ঝুঁকি, সেটা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি সেনেটের ফরেন রিলেশন কমিটিতে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন। এদিকে, কুয়ালালমপুরে বৈঠক হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং ভারতের বিদেশ সচিব সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের। চিনের প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে যে কোনও উপায়ে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা। এই ক্ষেত্রে প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারে ভারত। তাই, আমেরিকা ভীষণভাবে চাইছে, সাউথব্লককে কাছে টানতে। সে কারণে, পল কাপুরকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পল কাপুর বাংলাদেশ সফরে আসতে চলেছেন।
পল কাপুর আসছেন এমন একটা সময়ে যখন বাংলাদেশ অস্থির। সে দেশের তদারকি সরকার নির্বাচনের সময় জানিয়ে দিয়েছে। তবে দিন তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তদরকি সরকারের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছেই। এই নির্বাচন নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে তদারকি সরকারের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে কোনও উপায়ে এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে হবে। তদারকি সরকারের তরফ থেকে সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবাধ হয় কি না, সেটা দেখার জন্য তাকিয়ে আছে যেমন ভারত, তাকিয়ে আছে ডিপস্টেট। এই অবস্থায় মার্কিন নাগরিক এস পল কাপুর বাংলাদেশ আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বাংলাদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য সেখানকার জল মাপা। তখন নানা সমীকরণ ভেসে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
আাগমী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। একই সঙ্গে সেদিন বহুল চর্চিত গণভোটও হবে। ওই গণভোটে 'হ্যাঁ'...
Read more












Discussion about this post