মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলছে। দিন যত যাচ্ছে যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। যুদ্ধের জেরে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে হয়রানিতে। গত ১০ দিনের বেশী সময় ধরে ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ ভয়ংকর আকার নিয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী। এই পথ দিয়েই মূলত ইরান এবং আরব বিশ্বের দেশগুলি থেকে তৈলবাহী জাহাজ যাতায়াত করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোটা বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। দামবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তাদের দেশে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি আমদানি হয় কাতার থেকে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে তেল নিয়ে জাহাজ কীভাবে পৌঁছবে? এই চিন্তায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করে মজুতের লক্ষ্যে পেট্রল পাম্পগুলিতে ভিড় জমান বহু মানুষ। যদিও বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। জ্বালানি সঙ্কটে কি বাংলাদেশ লকডাউনের পথে চলে যাবে? এই প্রশ্নটাই ঘোরাঘুরি করছে। বর্তমানে তারেকের সংখ্যা বাংলাদেশে রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভয়বাহ অবস্থা বুঝতে পেরে তারা ইতিমধ্যেই আগে থেকে তেল কিনে রাখছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে লাইন দিয়ে তেল কিনছে। ওপার বাংলার মানুষরা ১০ দিনের জায়গায় ২০ দিনের তেল কিনে রাখছে।
যদি আবারও সেই লকডাউনের পিরিয়ড ফিরে আসে তাহলে কী হলবে সেটা ভেবে তারা আগে থেকেই সব মজুত করছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর । ওপার বাংলায় জ্বালনি তেল এবং গ্যাস নিয়ে তৈরী হয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা। ঢাকা সহ বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের লাইন। বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। বিএনপির সরকারের তরফ থেকে জানান হচ্ছে, দেশে আপাতত কোনও জ্বালানি সঙ্কট নেই। তাহলে কেন এত লাইন, হইহট্টগোল? কারণ মানুষ দুশ্চিন্তায়। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে সেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান, যা জ্বালানি সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ দিয়ে রোজ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ ব্য়ারেল তৈল সরবরাহ হয়, যা বৈশ্বিক তৈল সরবরাহের প্রায় ৩১ শতাংশ। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার অর্থ ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের বন্দর থেকেও তেল সরবরাহ বন্ধ।
জ্বালানি বাঁচাতে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যথেষ্ট জ্বালানি রয়েছে। তিনি সম্প্রতি জানান, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই । ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আসলে আমাদের দেশে তেলের কোনো অভাব নেই। গণমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে-আপনারা জনগণকে এই বার্তাটা দিন যে তাড়াহুড়া করে তেল কেনার কোনো দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুত আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারা রাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তুু তিনি বললে কী হবে,, তেল নিয়ে হাতাহাতির মত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে বাংলাদেশে। জ্বালানি সঙ্কটের প্রথম প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। তার ফলে অনেক গাড়ির মালিকও গাড়ি নিয়ে কম চলাচল করছেন। আর যখনই গাড়ি কমছে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। এই সঙ্কটের জেরে সরাসরি প্রভাব পড়চে অর্থনীতিতেও। ‘India-Bangladesh Friendship Pipeline’, যার ২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল। শেখ হাসিনার আমলে এই চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর মৈত্রী পাইপলাইন চুক্তি স্থগিত হয়ে গিয়েছি। তারপর বিএনপির সরকার ক্ষমতায় এসে আবার পাইপলাইন চালু করেছে। এই পাইপলাইনেনর মাধ্যমে দ্রুত বাংলাদেশে তেল আসে কম খরচে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, তাই ভয়ের কারণ নেই । তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখা হয়েছে এবং ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে । এছাড়া, অন্যান্য শহরগুলোতে তেল সরবরাহ ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে বলছেন, এই সার্বিক অবস্থা বাংলাদেশকে সকডাউনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন দেখার তারেকের সরকার কী করে……………..











Discussion about this post