ওসমান হাদির মৃত্যুর রাতে যে মবের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ছায়ানটে যে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি ইউনূসের আমলে সবথেকে ভয়াবহ ঘটনা। অনেকেই তখন বলছিলেন, একদিনে এরকম ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি বাংলাদেশে। কিন্তু প্রথম আলো তাদের প্রতিবেদনে একটি ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে এনেছে। তারা বলছে, ডিসেম্বরের থেকে জানুয়ারিতে মব এবং গণপিটুনির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আসলে কি বলার চেষ্টা করল পদ্মাপাড়ের প্রথম সারির সংবাদপত্র প্রথম আলো? মব, সন্ত্রাসের দিকে ইউনূস কি তবে রেকর্ড করল?
সম্প্রতি প্রথম আলো একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এটি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট। তার যে ফলাফল সেটা ভয়াবহ। মোট গণপিটুনিতে জানুয়ারিতে নিহত বেড়ে দ্বিগুণ, বেড়েছে অজ্ঞাতনামা লাশ। অর্থাৎ ডিসেম্বরের থেকে দ্বিগুণ হারে হত্যা হয়েছে জানুয়ারিতে। গত বছর ডিসেম্বর এবং চলতি বছর জানুয়ারির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে মানবধিকার সংস্কার সংগঠন এম এস এস বলছে, গণ পিটুনিতে বা মব সন্ত্রাসে জানুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণ। একইসঙ্গে অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা। শনিবার এম এস এফের দেওয়া জানুয়ারি মাসের মানবধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এই ফলাফল উঠে এসেছে। এই সংস্থা সমস্ত দিক খতিয়ে রেখে এবং পরিসংখ্যান দেখে এই রিপোর্ট তৈরি করে। মব সন্ত্রাসে হত্যার ঘটনা এই সরকারের আমলে বেড়েছে বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে মব ও গণপিটুনির মতো ২৮ টি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ জন। এদিকে ডিসেম্বর মাসে ২৪ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০ জন। অর্থাৎ দ্বিগুণ বেড়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। যেটা বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। ওই সংগঠনটি মনে করে, আইন অবজ্ঞা করে গণ পিটুনি দিয়ে হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ। যেটা বিচার বহির্ভূত হিসাবেই গন্য করা হয়। এরমধ্যে আরও একটি চিত্র উঠে এসেছে। সেটি হল গত 13 মাসে রাজনৈতিক সহিংস্রতায় নিহত হয়েছে ১৪৬ জন। তেরো মাসে ১১৩ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৮১ জন। এক মাসে নিহত ১৩ জন। পুলিশ বলছে, ৪৫ দিনে ১৪৪ নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কারাগারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ডিসেম্বরে তুলনায় জানুয়ারিতে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৩০ থেকে ১২০ জনে গিয়েছে। এমনকি অজ্ঞাত নামের আসামির সংখ্যা ১১০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০ হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে জানুয়ারি মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১ থেকে বেড়ে ৪ জন। এই চিত্রগুলি বলে দেয়, বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে কি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৫ টি। এদিকে ডিসেম্বরে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৪ টি। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই চিত্র যদি বদলানো না যায়, তবে বাংলাদেশে নির্বাচনে যে রক্ত ঝরবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রক্তপাতহীন নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের প্রাক্কালেই যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটাতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লাগাম টানা উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। যদি এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, শেষমেশ কি মুহাম্মদ ইউনূসের টনক নড়ে কিনা।












Discussion about this post