রবিবার রাতেই কলকাতা পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মিলিত কমান্ডার সম্মেলন উদ্বোধন করতেই তাঁর কলকাতায় আসা। তবে তিনি সিটি অফ জয়ে থাকবেন পুরো দুদিন, কিন্তু এই দুদিনে প্রধানমন্ত্রীর একটিও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। পুরো সময়টাই তিনি দেবেন সেনাবাহিনীকে। রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় এলেও সোমবার সকালে এসে পৌঁছলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা ভারতের ‘সুপারস্পাই’ অজিত ডোভাল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই দুজনও উপস্থিত থাকছেন। অনেকেই কৌতুহলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একদিন আগেই কেন কলকাতায় পৌঁছে গেলেন। ভারতীয় সেনার ইস্টার্ণ কমান্ড চিন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত। চিন ভারতের সিকিম, অরুণাচল প্রদেশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে অতীতে। যদিও এই মুহূর্তে বেজিং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী। দু-দেশের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী চিন সফরে গিয়ে শি জিংপিনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে এসেছেন। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ মেটার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহেই নরেন্দ্র মোদি ইস্টার্ণ কমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তাহলে বাংলাদেশ নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভারত? এই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।
কয়েকটি সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছন মণিপুর সফর শেষ করে। এরপর তিনি সোজা রাজভবনে পৌঁছে যান। সেখানেই তাঁর রাত্রিবাস করার কথা। কিন্তু জানা যাচ্ছে তিনি রাতেই একটি বৈঠক করেছেন ভারতের তিন বাহিনীর প্রধান এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের সঙ্গে। যা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। সূত্রের খবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে বেশ কয়েক ঘণ্টা আলাদাভাবে এই বৈঠকটি করেছেন। সেখানে ছিলেন ভারতীয় সেনার সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান, স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠী। এই বৈঠক নিয়েই চলছে জোরদার চর্চা। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিবাদ রয়েছে। এমনকি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কও এখন তলানিতে। এই আবহেই ফোর্ট উইলিয়ামে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনাবাহিনীর চার শীর্ষ কর্তার একান্ত বৈঠক অনেক প্রশ্ন তুলে দেয়।
অ্ন্যদিকে সোমবারের সম্মেলনও ভারতের ভবিষ্যত পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম ভারতীয় সেনা এবং কমান্ডারদের নিয়ে সবচেয়ে বড় বৈঠক হতে চলেছে। মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আগামীদিনের কৌশল এবং সীমান্ত স্ট্র্যাটেজি নিয়ে এই কনফারেন্সে আলোচনা হবে। সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো এবং যৌথ বাহিনীর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই সম্মেলনে কেবলমাত্র সেনাবাহিনীর কর্তারাই নয়, উপস্থিত থাকার কথা বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া-সহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার শীর্ষকর্তার। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এবারের সফরে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও রবিবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।












Discussion about this post