ঘটনাবহুল বাংলাদেশ। বিগত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের অন্দরে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটল। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই ইউরোপীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। তাঁরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজখবর নেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। জানা যাচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলির কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কিত নানান অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই কারণেই এই প্রতিনিধি দল আসছে ঢাকায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও ঘটছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা। যেমন, শনিবার ফের একবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে গিয়ে দেখা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তবে কৌতুহলের বিষয় হল তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমকে। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বা পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আরেকটি খবর হল, বাংলাদেশের মন্ত্রীদের আবাসিক এলাকা মিন্টো রোড থেকে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে বাংলাজেশ পুলিশ। আবার, এরমধ্যেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ‘মহোৎসবের নির্বাচন’ বলে বার্তা দিলেন মহম্মদ ইউনুস।
বাংলাদেশের একাধিক মহলের দাবি, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে অপসারণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে ইউনূস সরকারের একটা প্রভাবশালী অংশ। মুহাম্মদ ইউনূসও চাইছেন জেনারেল ওয়াকারের অপসারণ। কিন্তু ইউনূসের মতোই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জেনারেল ওয়াকার নানা ভাবে আপস করছেন বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থাৎ ধরেই নেওয়া যায় তিনি ওই পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকছেন। তেমনই জেনারেল ওয়াকারের মেয়াদও ২০২৬ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে এই সময়সীমার আগে যাবে। এই আবহে কয়েকদিনের ব্যবধানে জেনারেল ওয়াকার দেখা করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে। কিন্তু সঙ্গে করে তাঁর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে নিয়ে যাওয়ার কারণ নিয়েও চলছে চর্চা। কেউ কেউ বলছেন, জেনারেল ওয়াকারের পর তাঁরই সেনাপ্রধান হওয়ার কথা। তাই আগেভাগেই তিনি সেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে চাইছেন। অপরদিকে অন্য দলের দাবি, সেনাপ্রধান আসলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়েছিলেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আলোচনা চলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্থান নিয়ে। দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরেও চলছে এই আলোচনা। আবার উল্টে দিকে সেনাপ্রধানের অপসারণের জন্যও চক্রান্ত চলছে। এই সব নিয়েই আলোচনা হয়েছে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। আগামী ২১ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে ফাইনাল শুনানি আছে। কিন্তু তার আগেই যদি মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কি হবে সে নিয়েই দুজনের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।












Discussion about this post