হাসিনাতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মুহাম্মদ ইউনূসের। এবারে সরকারি এক কর্মশালায় অনুষ্ঠান চলাকালীন শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। ফলে স্বভাবতই মুখ পুড়লো ইউনূস সরকারের।
বাংলাদেশের রংপুরে সরকারি সভার মাঝেই ‘বিপত্তি’ ঘটল। জানা যাচ্ছে, ওই পর্যালোচনা সভায় ভার্চুয়াল প্রেজ়েন্টেশনের সময় ভেসে ওঠে হাসিনা এবং মুজিবরের ছবি। কিভাবে তাঁদের ছবি সামনে এল, তা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে বাংলাদেশে। ইতিমধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি নেতারা এই ঘটনার নিন্দা জানাতে শুরু করেছেন। বিএনপি ও জামাত শিবিরও কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুখ খুলল ইউনূস প্রশাসনও। এ ধরনের ঘটনা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলেই জানিয়ে দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, রবিবার রংপুরে বাংলাদেশের মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রকের এক বিভাগীয় পর্যালোচনা বৈঠক ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারও। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একটি ভার্চুয়াল প্রেজ়েন্টেশন দিচ্ছিলেন। ওই উপস্থাপনার সময় আচমকাই বড় পর্দায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। জানা গিয়েছে, ওই কর্মশালাটি সঞ্চালনা করছিলেন প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী, সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁকে বিষয়টি জানাতেই ওই কর্মকর্তা দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এঁদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এটি ভুলক্রমে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যিনি প্রদর্শন করেছেন তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।
তবে তিনি এও বলেন, বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সেটা বলা যাবে না। এখনও অনেকে রয়ে গিয়েছেন।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার যে ঘটনায় যথেষ্টই ক্ষুব্ধ তা তিনি হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কোনও মূল্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মুছে ফেলতে তৎপর। এর পিছনে যে জামাত ও এনসিপি নেতৃত্বের হাত রয়েছে সেটা সকলেই জানেন। ইউনূসের সরকার বঙ্গবন্ধুর মর্যাদাও কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জানা যাচ্ছে, রবিবারের কর্মশালায় যে প্রেজেন্টেশন দেখানো হচ্ছিল তাতে একটি স্লাইডে মনিটরের স্ক্রিনে দেখা যায় কক্ষের একটি দেওয়ালে রয়েছে মুজিবর এবং হাসিনার ছবি। অর্থাৎ, স্লাইডের ছবিটি পুরোনো। আগে বাংলাদেশের সব সরকারি কার্যালয়েই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পাশাপাশি টাঙানো হতো। এটা সেই সময়কারই ছবি। এখন এটি কেউ ইচ্ছা করেই ব্যবহার করেছিলেন, নাকি ভুলবশত হয়েছে সেটা নিয়েই বিতর্ক। কিন্তু ওই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সত্যিটাই বলে ফেলেছেন। যে ইউনূস সরকার, জামাত, বিএনপি ও এনসিপি যতই শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করুক না কেন। সেটা আদতে সম্ভব নয়। সেই কারণেই আওয়ামী লীগের মিছিলে দিনে দিনে ভিড় বাড়ছে। তেমনই সরকারি দফতরেও অনেকে আছেন যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক। এই ঘটনা তারই প্রমান।












Discussion about this post