রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে বড় আকারের মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও তাঁদের শাখা সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যা নিয়ে প্রবল মাথাব্যাথা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দোসরদের। একদিকে আওয়ামী লীগের মিছিলের দিন দিন যেমন বহর বাড়ছে, তেমনই দিন দিন সাহসও বাড়ছে। গত শনিবার যেমন ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় একটি বড় আকারের মিছিল হল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই মিছিলের একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পাশ দিয়েই চলে যাচ্ছে পুলিশের গাড়ি। তাঁদের মিছিলটি থামানোর কোনও উদ্যোগই ছিল না।
জানা যাচ্ছে, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে আগারগাঁও বাংলাদেশ বেতারের সামনে থেকে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলটি বের করেন। প্রায় হাজারের বেশি মানুষ ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান। আওয়ামী সমর্থকদের মুখে ছিল ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, রাজপথ কাঁপবে’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান। উল্লেখ্য গত শুক্রবারও জুমার নামাজের পর রাজধানীর বাংলামোটর, উত্তরা ও মিরপুরে বড় ধরনের মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। জানা যাচ্ছে, বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয়ের সামনেই জড়ো হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। জানা যাচ্ছে, প্রতিটি মিছিল থেকেই কয়েকজন আওয়ামী সমর্থককে আটকও করছে, কিন্তু তবুও থামানো যাচ্ছে না আওয়ামী লীগকে।
শেখ হাসিনার দলকে দেখে বাংলাদেশের জনগণ আর বিরক্তি প্রকাশ করছেন না। আওয়ামী লিগের কর্মসূচিতে বাধাও দিচ্ছে না, উল্টে দিন দিন আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বেড়েই চলেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জানা যাচ্ছে, তাতেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। বরং এবার পুলিশের সামনে, এনসিপি কার্যালয়ের সামনেও সদর্পে মিছিল করছে আওয়ামী সমর্থকরা। এ নিয়ে রবিবার ঢাকায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ওই সভায় একাধিক উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তাদের কাছে জানতে চান, বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলিগও নিষিদ্ধ। তাহলে রাজধানী ঢাকা-সহ বিভিন্ন শহরে তাঁরা কী করে মিটিং মিছিল করতে পারছে? পুলিশ কেন জানতে পারছে না? জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী একটি গোপন রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দল তাঁদের হারানো জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। রবিবার রাতে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বৈঠকে সে দেশের নিরাপত্তা আধিকারিকরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক দলগুলিই দায়ী। ওই রিপোর্টে উল্লেথ রয়েছে. ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐকবদ্ধ প্রতিরোধ কমে গিয়েছে। আগের মতো আর আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে অন্য দলগুলিকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। নানা কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাক্তন শাসকদলের বিষয়ে অবস্থান বদল হয়েছে। তাঁরা এখন অনেক বেশি আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি ওই রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, পুলিশ, গোয়েন্দারা আগের মতো শেখ হাসিনার দলের কর্মসূচি আগাম জানতে পারছে না। জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীও ক্ষিপ্ত হন, আওয়ামী লিগের ধৃত নেতাকর্মীদের অনেকে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী আমলের বিচারকরা জামিন দিয়ে দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে প্রবল আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।












Discussion about this post