ইউনূস আমেরিকার বন্ধু না শত্রু? প্রশ্ন ওঠার কারণ, আমেরিকার একের পর এক সিদ্ধান্ত। আমেরিকা বাংলাদেশের থেকে অনেক কিছু নিয়ে নিচ্ছে। বন্দর নিয়েছে। অনেক বেশি দামে তরল গ্যাস বিক্রি করছে। কিন্তু বিনিময়ে তেমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। তিনটি বিমানে করে আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাস করা বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠিয়েছেন। তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে সেভাবে, যেভাবে বন্দিদের রাখা হয়। এই সব বাংলাদেশিদের হাতে ছিল হাত কড়া, পায়ে শিকল। খুব অসম্মানের প্রত্যাবর্তন। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। কেন এমন হল, সেটাই প্রশ্ন। কারণ, এটা ধরে নেওয়া হয়েছিল ইউনূস আমেরিকার বন্ধু। সুতরাং সব দিক থেকে আমেরিকা সাহায্য করবে। বাংলাদেশে ডলারে অভাব থাকবে না। বিনিয়োগের বন্যা বয়ে যাবে। সেই আশায় জল ঢেলে আমেরিকা এখন বাংলাদেশের সঙ্গে শত্রুতা করছে।
ড. ইউনূস কি আমেরিকার বন্ধু? না ভৃত্য? আমেরিকায় বেশ কয়েকবার গিয়েছেন এমন বাংলাদেশিরাও এখন মার্কিন ভিসা পাচ্ছেন না। মার্কিন ভিসা এখন সোনার চেয়েও মহার্ঘ। ইউনূস সেন্টারের কয়েকজন আমেরিকায় যাবেন বলে ভিসার আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের সঙ্গে ইউনূসের একটি চিঠি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে ইউনূস আর্জি জানিয়েছেন, তাদের যেন ভিসা দিয়ে দেওয়া হয়।
ওই চিঠি পেয়ে বেজায় চটেছেন ট্রেসি জ্যাকবসন। তিনি ইউনূসকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার নিজস্ব ভিসা নীতি রয়েছে। সুতরাং, আমরা কাকে ভিসা দেব, আর কাকে দেব না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই মার্কিন প্রশাসনের। আমরা আপনার থেকে এই ধরনের চিঠি প্রত্যাশা করি না। এই নিয়ে চিঠি দেওয়ার দরকার ছিল না। আমরা আশাও করিনি। এটাও কম অপমানের নয়।
কারণ, বাংলাদেশের সরকার তদারকি সরকার হলেও মাথায় যিনি আছেন তিনি সরকার প্রধান। আর চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। পদাধিকার বলে তিনি সরকার প্রধানের থেকে উপরে নয়। তিনি পুরো সময়ের রাষ্ট্রূদত নন। একজন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করছেন। মার্কিন দূতাবাসে কাজ করেন বলেই তিনি একটি সরকার প্রধানকে এভাবে অপমান করতে পারেন না।
এদিকে, বাংলাদেশে প্রচুর মার্কিন সেনা ও মার্কিন গোয়েন্দা ঘোরাঘুরি করছে। কিছুদিন আগে হোটেল থেকে এক মার্কিন সেনার নিথর দেহ উদ্দার হয়। বিষয়টা কিন্তু ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। আমেরিকা বা বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এই নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না। এমনকী দেহের ময়না তদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি। সোজা আমেরিকার দূতাবাস নিয়ে নিয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে, এই মৃত্যুর পিছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাও জড়িত। বাংলাদেশে কত মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সে ব্যাপারে না তদারকি সরকারের কাছে খবর আছে, না সে দেশের সেনাবাহিনীর কাছে। জেলায় আন্ডার কভারে বহু গোয়েন্দা রয়েছে।
বাংলাদেশের আকাশে বিভিন্ন সামরিক বিমানের আনাগোনা বেড়েছে। রবিবার একটি বিমান চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ঠিক তখনই ঢাকায় মিশরের একটি সামরিক বিমান অবতরণ করে। এই সব বিমান কেন আসছে? তারা কী জ্বালানি ভরার জন্য বাংলাদেশে অবতরণ করছে? নাকি অন্য কোনও কু উদ্দেশ্য রয়েছে। কয়েকজন সামরিক কর্তাদের মত, শুধু মাত্র রিফুয়েলিংয়ের জন্য নয়। আর এটা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে যখন শোনা যাচ্ছে, হাসিনা দেশে ফিরতে চলেছে। ভারত থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।












Discussion about this post