আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের সামনে পড়ে গিয়ে গোপালগঞ্জ ছেড়েছিলেন ছাত্রনেতারা। এবার তারা কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিরোধের মুখে পড়ে পালিয়ে গেলেন তারা। এবারও তাদের উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পথসভার মঞ্চ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর আপত্তিকর মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিএনপি নেতা কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপরই ভঙ্গ হয় চকরিয়ায় পথসভা। দেখা যায়, বিএনপি কর্মীদের মারছে সেনা সদস্যরা। তেমন ছবি সামনে এসেছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সেনাবাহিনী শুধুমাত্র ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা দেবে? তবে কি পালটি খাচ্ছেন সেনাপ্রধান? এমনিতেই গোপালগঞ্জের ঘটনায় সেনাবাহিনী বিতর্কের মুখে পড়েছে। এমনকি সেনা পাহারা থাকার পরও যেভাবে এনসিপির একের পর এক সভা ভঙ্গ করে দেওয়া হচ্ছে, তাতে এনসিপি ভাবমূর্তি কি প্রকাশ পাচ্ছে বাংলাদেশ মানুষের কাছে? রাজনীতিতে যেখানে মাঝারি শক্তির কোনও দলকে মোকাবিলার শক্তিও এনসিপির নেই। সেখানে তারা একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই দলকে শত্রু পরিণত করে কতদিন টিকে থাকতে পারবে? এমন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসছে।
গোপালগঞ্জ এখনও থমথমে। চলছে ধরপাকড়। গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অনেকে অভিযোগ তুলছেন, নির্যাতন চালানো হচ্ছে তাদের উপর। এমনকি প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কারফিউ জারি করে রাখা হয়েছে। ইউনূস সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত বহু মানুষ বাধ্য হয়ে লিখছেন, সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন বন্ধ করুন। অর্থাৎ কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছে, সেটা অনুমান করা যায়। এবার এনসিপির কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিএনপির প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। ঠিক যেমনটা গোপালগঞ্জ হয়েছিল। পদযাত্রার অংশ হিসাবে ১৯ জুলাই বিকেলে কক্সবাজারে পৌর এলাকায় পথসভা করার কথা ছিল দলটির।ওই পথসভায় বিতর্কিত মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি সালাউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগে নারায়ণগঞ্জে বিখ্যাত গডফাদার শামম ওসমান ছিল। এখন শুনছি কক্সবাজারে নব্য গডফাদার শিলং থেকে এসেছে। গেট দখল করছে, চাঁদাবাজি করছে। আবার নাকি সে সংস্কার বোঝে না। কক্সবাজার জনতা এই ধরনের সংস্কার বিরোধী। যে পিয়ার বোঝে না। রাজপথে তাদের দেখিয়ে দেবে। আসলে এনসিপির জনসমর্থন এখন সেরকম নেই। ফলে তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইছে। পিআর বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব হল, নির্বাচনী ব্যবস্থার এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে আসন বন্ঠন হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা সালেহউদ্দিন আহমেদ তীব্র বিরোধীতা করেন। আর এতেই ক্ষেপে উঠেন এনসিপি নেতারা। সেই কারণেই বিএনপি নেতার এলাকায় গিয়ে গড ফাদার বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন ছাত্রনেতারা। জানা যায়, এনসিপির কর্মসূচির মাঝে কিছু মানুষ হাজির হন। শুধু তাই নয়, তাদের ব্যানার খুলে দেন। মঞ্চ ভাংচুর করেন। গোটা শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। চরম উত্তেজনার মাঝে পণ্ড হয়ে যায় তাদের সভা। এমনকি বিএনপি নেতারা নাকি এনসিপির গাড়ি বহর আটকে রাখেন। এমন অভিযোগ উঠে আসে। ফেসবুক আব্দুল হানান মাসুদ লেখেন, চকরিয়ায় গাড়ি বহর আটকে রেখেছে বিএনপি নেতারা। কক্সবাজারে দেখা যায়, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর পাহারায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এনসিপি নেতারা। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল গোপালগঞ্জে। আর কতদিন সেনাবাহিনী এনসিপি নেতদের রক্ষাকর্তা হয়ে কাজ করবে? প্রশ্ন উঠে আসছে।












Discussion about this post