দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ভারত সফরে ছিলেন। এখন তিনি ঢাকায়। অর্থাৎ ভারত সফর সেরেই তিনি বাংলাদেশে গিয়েছেন। সেই দিক থেকে পল কাপুরের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় বংশদ্ভুত পল কাপুর মার্কিন প্রশাসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। কারণ তাঁকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলি দেখতে হচ্ছে। আর এই এলাকাই এখন ভূ-রাজনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত। ফলে গোটা অঞ্চলেই একটা যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পল কাপুরের আগমন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু দিল্লিতে অবস্থানকালে পল কাপুর কি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কোনও বৈঠক করেছেন? যদিও এমন দাবি করছে ভারত ও বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যম।
তিন দিনের সফরে দিল্লি থেকে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। গত অক্টোবরে ডোনাল্ড লুর উত্তরসূরি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই পল কাপুরের প্রথম বাংলাদেশ সফর। সূচি অনুষায়ী, বুধবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের আয়োজনে সে দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সফরের শেষ দিনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। আপাতত এই তালিকায় জামায়াত ও এনসিপি যেমন রয়েছে, তেমনই সরকারি দল বিএনপি রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের নাম নেই পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের তালিকায়। তবে সরকারিভাবে এখনও জানা যায়নি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন কিনা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, পল কাপুরের সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে তিনি নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই সমস্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগীতা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
সবমিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, পল কাপুরের এই সফরে মার্কিন স্বার্থ নিয়েই বেশ আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক সহযোগিতা। বিশ্লেষকদের মতে, এই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইবে তাঁদের স্বার্থ রক্ষা আগে করতে। সে দিক থেকে আওয়ামী লীগ বা নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা থাকবে না ওয়াশিংটনের। সেটা পরবর্তী সময়ও হতে পারে। ঘটনা হল, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই পল কাপুর চিনের বিরুদ্ধে আমেরিকার পদক্ষেপে ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে অভিহিত করেছিলেন। ভারত কীভাবে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে পল কাপুর, একটি শক্তিশালী ভারত কেবল চিনকে দূরে রাখে না বরং কোনও একক আধিপত্যকে এই অঞ্চল দখল করতে বাধা দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি ভারতে এলেন। ফলে পল কাপুরের এই সফর এবং সরকারি বৈঠকে যে আগাগোড়াই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়েই বেশি আলোচনা হবে সেটা বলাই বাহুল্য।
আগামী ৮ মার্চ লন্ডনে কমনওয়েলথের ২৬তম পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রীদের সভায় যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। ওই সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কয়েকটি সূ্ত্র দাবি করছে, কমনওয়েলথ বৈঠকের সাইডলাইনে খলিলুর ও জয়শঙ্করের মধ্যে একটি বৈঠক হতে চলেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকা ভিসা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু করা, বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে থাকা ভারতের একাধিক প্রকল্প চালু করার বিষয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, দিন কয়েকের ব্যবধানে খলিলুরের সঙ্গে পল কাপুরের বৈঠক, অন্যদিকে এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক। বাংলাদেশের আগামীদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।











Discussion about this post